দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ তথ্য জানিয়েছেন। প্রায় দুই দশক ধরে চলা আলোচনা শেষে এই চুক্তি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘গতকাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে মানুষ একে মাদার অব অল ডিলস বলছে। এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের কোটি মানুষের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।’
এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত তার সুরক্ষিত ও বিশাল বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের জন্য আরও উন্মুক্ত করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত ভারত ও ইইউর মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েনের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ভারত-ইইউ শীর্ষ সম্মেলনে যৌথভাবে চুক্তির বিস্তারিত ঘোষণা করবেন।
ভারত সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে পাঁচ থেকে ছয় মাস আইনি যাচাই-বাছাই চলবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করছি এক বছরের মধ্যেই চুক্তিটি কার্যকর হবে।’
সম্প্রতি বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ার প্রেক্ষাপটে একের পর এক বাণিজ্য চুক্তি করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত। কয়েক দিন আগে ইইউ দক্ষিণ আমেরিকার জোট মারকোসুরের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করে। এর আগে ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গেও চুক্তি হয়। একই সময়ে ভারত ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের অনিশ্চয়তা এবং শুল্কনীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণেই এসব চুক্তিতে গতি এসেছে। গত বছর যোগাযোগ ভেঙে পড়ায় ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে যায়।
২০২২ সালে দীর্ঘ নয় বছরের বিরতির পর ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতসহ একাধিক দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপ করলে আলোচনা আরও গতি পায়।
ভারতের সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এই চুক্তির ফলে শ্রমনির্ভর খাতে ভারতের রপ্তানি বাড়বে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের নেতিবাচক প্রভাব আংশিকভাবে সামাল দিতে সহায়ক হবে। তিনি আরও বলেন, উচ্চ শুল্কে কিছুটা ছাড় পাওয়ায় ভারতের বাজারে ইউরোপীয় পণ্যের দামেও তাৎক্ষণিক সুবিধা মিলবে, বিশেষ করে গাড়ির ক্ষেত্রে যেখানে শুল্কের হার ১১০ শতাংশ পর্যন্ত।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/