দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পরিবর্তনে কাউকে বাধ্য করতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন তারই সাবেক শীর্ষ উপদেষ্টা গ্যারি কোহন। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডই থাকবে’।
আইবিএমের ভাইস চেয়ারম্যান গ্যারি কোহন ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত আগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
এদিকে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সবাইকে ‘শান্ত থাকতে’ এবং ‘ঘটনা যেভাবে এগোয়, সেভাবেই এগোতে দিতে’ আহ্বান জানিয়েছেন।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক সংবাদ সম্মেলনে বেসেন্ট বলেন, ট্রাম্পের শুল্কসংক্রান্ত ঘোষণায় অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতি আগের মতো নয়।
গ্যারি কোহন বলেন, ন্যাটোর অংশ কোনো স্বাধীন দেশে আগ্রাসনের বিষয়টি ‘অতিরিক্ত সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার’ মতো হবে। তিনি মনে করেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক বক্তব্য আলোচনার কৌশলের অংশও হতে পারে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক এক মার্কিন কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের বৈঠকে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের মধ্যেই এই বিষয়ে প্রায় একমত যে গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডই থাকবে।
কোহনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে পারে এবং এতে গ্রিনল্যান্ডও আপত্তি করবে না। কারণ উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক মহাসাগর এলাকায় সামরিক ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের বিপুল কিন্তু এখনও পুরোপুরি কাজে না লাগানো বিরল খনিজ সম্পদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ‘অফটেক’ চুক্তি করতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কোনো দেশ আগ্রাসন চায় না, বিশেষ করে যখন সেটি ন্যাটোর মতো সামরিক জোটের অংশ। এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবসম্মত নয়। কোহন আরও বলেন, ট্রাম্প অতীতে আলোচনায় সুবিধা পেতে অনেক সময় নিজের দাবি বাড়িয়ে উপস্থাপন করেছেন। গ্রিনল্যান্ডের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি বা খনিজ সরবরাহ চুক্তিই তার আসল লক্ষ্য হতে পারে।
দাভোসে এবারের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের শুরুতে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থান রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই। বুধবার এই সম্মেলনে ট্রাম্পের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে স্কট বেসেন্ট বলেন, প্রেসিডেন্টের মন্তব্য নিয়ে অযথা আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বেসেন্ট বলেন, ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র এবং ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা প্রশ্নাতীত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে উভয় পক্ষই অংশীদার। তবে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে মতপার্থক্য থাকতে পারে।
গ্যারি কোহন আরও বলেন, গ্রিনল্যান্ডের বিরল খনিজ সম্পদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়, এই খনিজগুলোর বড় সরবরাহ গ্রিনল্যান্ডে রয়েছে।
তিনি জানান, আইবিএম বর্তমানে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। কোহন বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে সব ব্যবসার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও দক্ষ করে তুলবে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুর পাশাপাশি কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়ন নিয়েই মূলত আলোচনা চলছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/