দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রচেষ্টায় বাধা দিলে বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্ককে একটি ‘বিপজ্জনক নিম্নমুখী’ ধারার দিকে ঠেলে দিতে পারে। আল জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার এক যৌথ বিবৃতিতে শুল্কের হুমকির লক্ষ্য হওয়া আটটি দেশ ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য জানায়, তারা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের পাশে ‘পূর্ণ সংহতি’ প্রকাশ করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত সপ্তাহে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে তারা সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার নীতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সংলাপে বসতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে শুল্কের হুমকিকে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর উল্লেখ করে বলা হয়, এতে একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী ধারার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। তারা প্রতিক্রিয়ায় ঐক্যবদ্ধ ও সমন্বিত থাকার এবং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এই কড়া প্রতিক্রিয়া এমন এক সময়ে এলো, যখন ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান চাপ মোকাবিলায় সমন্বিত কৌশল নির্ধারণে জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ এবং ‘যেকোনো ধরনের জবরদস্তির বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করবে’।
ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক হুমকির জবাবে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ এবং মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর বাজার-নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এর আগে শনিবার ট্রাম্প ঘোষণা দেন, গ্রিনল্যান্ড কেনার বিষয়ে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আট দেশের ওপর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ এবং ১ জুন থেকে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ এবং ২০২৩ সালে গৃহীত অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট সক্রিয় করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে। এই ব্যবস্থাটি আগে কখনো প্রয়োগ করা হয়নি। এটি কার্যকর হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগে কড়াকড়ি আরোপ এবং তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির সুরক্ষা প্রত্যাহার করা হতে পারে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান জার্মান এমইপি বের্ন্ড লাঙ্গে বলেন, এই ধরনের পরিস্থিতির জন্যই অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট তৈরি করা হয়েছিল এবং এখনই এটি ব্যবহার করা উচিত।
গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের অনড় অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সম্পর্ককে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় বিশ্লেষকেরা। এতে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও নাকচ করেননি, যদিও ন্যাটোর মূল নীতি অনুযায়ী এক সদস্যের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা।
সোমবার ট্রাম্প আবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ডেনমার্ক নাকি রাশিয়ার হুমকি মোকাবিলায় ‘কিছুই করতে পারেনি’, তাই এখন ‘সময় এসেছে’ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার।
ডেনমার্ক সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা গ্রিনল্যান্ড বিক্রি করবে না। জরিপে দেখা গেছে, দ্বীপটির প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দার অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে আগ্রহী নন।
শনিবার ডেনমার্কের বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। তাদের স্লোগান ছিল ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’ এবং ‘গ্রিনল্যান্ড থেকে হাত সরাও’।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ইউরোপীয় দেশগুলোর ‘জোরালো সমর্থনের’ জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা সহযোগিতা চান, সংঘাত নয়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, কোনো ধরনের হুমকি বা ভয় দেখানো ইউরোপের অবস্থান বদলাতে পারবে না এবং শুল্কের হুমকি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ট্রাম্পের পরিকল্পিত শুল্ককে ‘সম্পূর্ণ ভুল’ আখ্যা দিয়ে জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হবে।
এমএস/