দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের ক্রমবর্ধমান নৌতৎপরতা এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করতে যাচ্ছে ভারত। এই পদক্ষেপে বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে ভারতের সামুদ্রিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।
শীর্ষ প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।
জানা গেছে, এই ঘাঁটি মূলত একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে কাজ করবে এবং এতে ছোট যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। নৌবাহিনী হলদিয়ার বিদ্যমান ডক কমপ্লেক্স ব্যবহার করবে, ফলে অতিরিক্ত অবকাঠামো নির্মাণ না করেই ঘাঁটি দ্রুত কার্যকর করা সম্ভব হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি নির্দিষ্ট জেটি এবং তীরভিত্তিক সহায়ক পরিকাঠামো নির্মাণ করা হবে।
হলদিয়া ঘাঁটিতে ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফ্ট এবং ৩০০ টন ওজনের নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফ্ট মোতায়েন করা হবে। এই উচ্চগতির নৌযানগুলো ঘণ্টায় প্রায় ৪০–৪৫ নট বেগে চলতে সক্ষম এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াভিত্তিক সামুদ্রিক অভিযানের জন্য বিশেষভাবে নকশা করা হয়েছে। এদের কামান ও লয়টারিং অস্ত্রের মাধ্যমে নজরদারি এবং আক্রমণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
কেন এই নৌঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে এই পদক্ষেপের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে—ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভির চলাচল বৃদ্ধি, সামুদ্রিক অনুপ্রবেশ নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগ এবং বাংলাদেশ থেকে সমুদ্রপথে অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা।
ভারত–বাংলাদেশ উপকূলবর্তী অগভীর জলরাশি ও সামুদ্রিক যান চলাচলের কারণে দ্রুতগামী নৌযান প্রতিরোধ ও আটক অভিযানে বিশেষভাবে কার্যকর।
চীনের ভারত মহাসাগরে বাড়তে থাকা নৌপ্রভাব, বাংলাদেশের সঙ্গে বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা ও পরিকাঠামো সহযোগিতা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের সামরিক অংশীদারত্বের প্রেক্ষাপটে হলদিয়া ঘাঁটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
১০০ নৌ কর্মকর্তা মোতায়েন
ঘাঁটিতে প্রায় ১০০ জন নাবিক ও অফিসার কাজ করবেন। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ কমান্ড নয়, তবে হুগলি নদীর জটিল পথ এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে নৌযান পাঠানোর সুবিধা দেবে।
ভারতের পূর্ব উপকূলে ইতিমধ্যেই বড় নৌঘাঁটি রয়েছে, যেমন বিশাখাপত্তনমে ইস্টার্ন নেভাল কমান্ড এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের ঘাঁটিগুলো। হলদিয়ার ঘাঁটি এই বৃহত্তর সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ। ২০২৪ সালে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বে ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল ১২০টি ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফ্ট এবং ৩১টি নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফ্ট কেনার অনুমোদন দেয়।
এই নৌযানগুলো ১০–১২ জনের ক্রু নিয়ে পরিচালিত হয় এবং উপকূলীয় টহল, বন্দরের প্রতিরক্ষা এবং বিশেষ অভিযান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা বাড়াতে এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ।
এবি/