দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেনেজুয়েলা ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের লাগাম টানতে ভোটাভুটি হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চকক্ষ সিনেট। এর মাধ্যমে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আর কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিতে বাধা দেওয়া হবে। প্রস্তাবটির সমর্থকদের দাবি, হাড্ডাহাড্ডি ভোটে এটি পাস হতে পারে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মার্কিন সিনেটে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব আলোচনায় আসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সেপ্টেম্বর উপকূলের কাছে ভেনেজুয়েলার নৌযানে হামলার মাধ্যমে প্রশাসন সামরিক চাপ বাড়ানোর পর থেকে আনা একাধিক ‘ওয়ার পাওয়ার্স’ প্রস্তাবের মধ্যে এটি সর্বশেষ।
এতদিন রিপাবলিকানরা এসব প্রস্তাব আটকে রেখেছিলেন। তবে সর্বশেষ ভোটে ফল ছিল ৫১–৪৯। ট্রাম্পের দলের দুই সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে গত নভেম্বরে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন।
সে সময় প্রশাসনের কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করেছিলেন, তারা ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তন বা দেশটির ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন না।
মাদুরোকে আটক করার পর ডেমোক্র্যাটরা প্রকাশ্যে এবং কয়েকজন রিপাবলিকান আড়ালে প্রশাসনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন।
প্রস্তাবের সহ-পৃষ্ঠপোষক কেন্টাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল ভোটের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আজ আমি অন্তত দুইজন রিপাবলিকানের সঙ্গে কথা বলেছি, যারা আগে এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেননি, কিন্তু এখন তা বিবেচনা করছেন।’
তিনি বলেন, ‘তারা কীভাবে ভোট দেবেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারি না। তবে অন্তত দু’জন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন, এবং কেউ কেউ প্রকাশ্যে উদ্বেগের কথাও বলছেন।’ এ সময় তার পাশে ছিলেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন, যিনি প্রস্তাবটির আরেক প্রধান উদ্যোক্তা।
পল ওই রিপাবলিকান সিনেটরদের নাম প্রকাশ করেননি। বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসনসংখ্যা ৫৩ এবং ডেমোক্র্যাটদের ৪৭।
সামনে বাধা
রয়টার্স বলছে, সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হলে যুদ্ধক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে আন্দোলনরত আইনপ্রণেতাদের জন্য এটি হবে একটি বড় সাফল্য। তবে আইনে পরিণত হতে হলে প্রস্তাবটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও পাস হতে হবে এবং ট্রাম্পের প্রত্যাশিত ভেটো অতিক্রম করতে হবে। সে ক্ষেত্রে উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।
এই বাধাগুলো স্বীকার করলেও আইনপ্রণেতারা বলছেন, ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সরকার পরিবর্তনের অভিযানের বিষয়ে কিছু রিপাবলিকান সতর্ক হতে পারেন। বুধবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাজেট ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলার করতে চান।
সিনেটর টিম কেইন উল্লেখ করেন, কয়েক মাস ধরে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার নৌযানে হামলা চালাচ্ছে। তিনি ট্রাম্পের সেই বক্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলাকে “নিয়ন্ত্রণ করবে।” পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ জব্দের প্রসঙ্গ তুলে কেইন বলেন, “এটি কোনোভাবেই কেবল একটি সীমিত গ্রেপ্তার অভিযান নয়।”
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান শুরুর আগে যেকোনো প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়।
অন্যদিকে, ওয়ার পাওয়ার্স প্রস্তাবের বিরোধীদের দাবি, মাদুরোকে আটক করার ঘটনা একটি আইনপ্রয়োগকারী অভিযান, সামরিক পদক্ষেপ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগে মাদুরোর বিচার চলছে, যেগুলোতে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে সীমিত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাংবিধানিক অধিকার।
এবি/