দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযানে আটক করার পর বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ ও অঞ্চলের প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রিনল্যান্ড, কিউবা, কলম্বিয়া, মেক্সিকো ও ইরান—এই দেশগুলোর বিষয়ে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে প্রকাশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি ও তাঁর প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
ভেনেজুয়েলা অভিযানের পর ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় আশপাশের দেশগুলো স্থিতিশীল ও সফল হোক এবং সেখানে তেল উৎপাদনে কোনো বাধা না থাকুক। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আর কখনো প্রশ্নের মুখে পড়বে না।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প আবারও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চল প্রয়োজন। তাঁর দাবি, সেখানে রাশিয়া ও চীনের জাহাজের উপস্থিতি বাড়ছে এবং ডেনমার্ক একা এটি সামাল দিতে পারবে না। এর জবাবে গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স ফ্রেডেরিক নিলসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এমন বক্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অসম্মানজনক। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক দু’দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
কলম্বিয়া প্রসঙ্গে ট্রাম্প দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন এবং ভবিষ্যতে সেখানে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেন। এর জবাবে পেত্রো বলেন, তাঁর সরকার মাদকবিরোধী লড়াইয়ে রেকর্ড পরিমাণ কোকেন জব্দ করেছে এবং মানবিক আইন মেনে সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কলম্বিয়ায় কোকেন উৎপাদন বর্তমানে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
কিউবা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, দেশটি এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়েছে, তাই সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তাঁর দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় কিউবার আয়ের বড় উৎস নষ্ট হয়েছে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবা সরকারকে বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগেল দিয়াস-কানেল ভেনেজুয়েলার সঙ্গে জোট রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
মেক্সিকোর বিষয়ে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, দেশটি মাদক কার্টেল দমনে যথেষ্ট কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। তিনি বলেন, মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকছে। এমনকি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টকে কার্টেল দমনে মার্কিন সেনা সহায়তার প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তবে মেক্সিকো সরকার এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প আবারও সতর্ক করে বলেন, বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা চালালে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর জবাব দেবে। সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা নিয়েও হুঁশিয়ারি দেন। জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেন, দেশটি শত্রুর কাছে মাথা নত করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলা অভিযানের পর ট্রাম্প প্রশাসনের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং বিষয়টি জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/