দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স আটক করেছে—এমন খবরের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক হামলার খবরও সামনে এসেছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মাদুরোকে ‘আটক’ করার এই খবর অনেকের কাছে ইতিহাসের পুরোনো অধ্যায়গুলোর কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। এর আগে পানামের সাবেক সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগা এবং ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ধরা পড়েছিলেন।
লাতিন আমেরিকায় সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৯ সালে পানামায় আক্রমণ চালায়। ওই অভিযানে দেশটির সামরিক ও বাস্তব নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র সে সময় দাবি করেছিল, পানামায় মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, দুর্নীতি দমন এবং অবৈধ মাদক ব্যবসা রোধের লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল।
পানামায় হামলার এক বছর আগে, ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে নরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগ ও কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর মার্কিন সেনারা আটক করে। যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বাহিনীর ইরাক আক্রমণ ও দখলদারিত্ব শুরু হওয়ার প্রায় নয় মাস পর তাকে ধরা হয়। ওই যুদ্ধের পেছনে বাগদাদের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র থাকার অভিযোগ তুলে ধরা হলেও পরবর্তীতে তা ভুল গোয়েন্দা তথ্য বলে প্রমাণিত হয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নরিয়েগা ও সাদ্দাম—উভয়েই এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। বিশেষ করে সাদ্দাম হুসেইন ১৯৮০-এর দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সমর্থন পেয়েছিলেন, যে যুদ্ধে প্রায় এক মিলিয়ন মানুষের প্রাণহানি ঘটে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাদুরোর ঘটনায় আবারও সেই পুরোনো কৌশল ও ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন ও বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
এবি/