দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কুরআন পুড়িয়েছে উগ্রপন্থী মুসলিমবিরোধী একটি গ্রুপ। সুইডেনে একই ধরনের ঘটনা ঘিরে মুসলিম বিশ্বের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার মধ্যে ডেনমার্কে আজ (সোমবার) কুরআনার পোড়ানোর এই ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৪ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ইরাকি দূতাবাসের সামনে ইসলামের পবিত্র গ্রন্থ কুরআনের একটি কপিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন একদল বিক্ষোভকারী। ইরাকি দূতাবাসের সামনে দ্বিতীয়বারের মতো কুরআন পোড়ানোর এই ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে আরও অবনতির ঝুঁকি তৈরি করেছে। এর আগে, গত শুক্রবার কোপেনহেগেনে ড্যানিশ প্যাট্রিওটস নামের উগ্রপন্থী ওই গোষ্ঠী পবিত্র কুরআনের পাশাপাশি ইরাকের পতাকায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা গোষ্ঠীটির ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশি পাহারায় ইরাকি পতাকা ও পবিত্র কুরআনের একটি কপিতে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে ড্যানিশ প্যাট্রিওটসের সদস্যরা। গত মাসে সুইডেনে পবিত্র কুরআন পুড়িয়েছিলেন সালওয়ান মোমিকা নামের এক ব্যক্তি। তিনি ইরাকি-বংশোদ্ভূত সুইডিশ শরণার্থী।
সুইডেন এবং ডেনমার্কে কুরআন পোড়ানোর ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। শুক্রবার বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। শনিবারও ইরাকের রাজধানী বাগদাদে হাজার হাজার মানুষ কুরআন পোড়ানোর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা মুসলিমদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি ও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
কুরআন পোড়ানোর প্রতিবাদে গত বৃহস্পতিবার বাগদাদে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে ইরাক। একই সঙ্গে স্টকহোমে নিযুক্ত ইরাকের রাষ্ট্রদূতকেও প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি। স্টকহোমে কুরআন পোড়ানোর ঘটনা ঘিরে ইরাক-সুইডেনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চরম অবনতির মাঝে ইরাকের সরকার ওই সিদ্ধান্তের কথা জানায়।
গত মাসে সুইডেনে কুরআন পোড়ানোর জেরে বৃহস্পতিবার (২০ জুলাই) বাগদাদে সুইডিশ দূতাবাসে শত শত ইরাকির হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ ইরাকিদের আশ্বস্ত করে ইরাকের সরকার আবারও কুরআন পোড়ানো হলে সুইডেনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দেয় ইরাক।