দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত এক মাসে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কমপক্ষে ৬৭ ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
জেনেভায় শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইউনিসেফ মুখপাত্র রিকার্দো পিরেস বলেন, নিহতদের মধ্যে রয়েছে খান ইউনিসে বৃহস্পতিবার এক বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারানো এক নবজাতক শিশু। এছাড়া আগের দিন ইসরায়েলের পৃথক হামলায় আরও সাত শিশু নিহত হয়েছে।
পিরেস বলেন, ‘এগুলো সবই যুদ্ধবিরতির সময় ঘটেছে। এই ধারাটি ভয়াবহ।’ তিনি জানান, ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির প্রথম পূর্ণ দিন থেকে এখন পর্যন্ত শিশুদের মৃত্যু উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। ‘এগুলো কোনো পরিসংখ্যান নয়— প্রতিটি শিশুর পরিবার ছিল, স্বপ্ন ছিল, নিজের একটি জীবন ছিল— যা হঠাৎ করেই থেমে গেল।’
ইউনিসেফ আগেই জানিয়েছিল, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৪ হাজার শিশু নিহত বা আহত হয়েছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, ২০২৪ সালে প্রতি মাসে গড়ে ৪৭৫ ফিলিস্তিনি শিশু আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করছে— যার মধ্যে রয়েছে মাথায় আঘাত, পোড়া ক্ষত এবং গুরুতর অঙ্গহানি। সংস্থাটি বলছে, গাজা এখন আধুনিক ইতিহাসে ‘সবচেয়ে বড় সংখ্যার শিশু অঙ্গহীনদের এলাকা’ হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলের অবরোধজনিত খাদ্যসঙ্কটও শিশুদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইসরায়েল খাদ্যকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, যার ফলে দুর্ভিক্ষের মতো পরিস্থিতিতে কয়েক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ সপ্তাহে ইসরায়েল গাজার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলা চালায়। তাদের দাবি, খান ইউনিসে ইসরায়েলি সৈন্যদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার জবাব হিসেবে এই অভিযান। হামাস এ দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এসব হামলা ‘গণহত্যা আবার শুরু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত’। এ হামলায় অন্তত ৩২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ) জানায়, তারা গাজায় খোলা ক্ষত, গুলিবিদ্ধ হাত-পা ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত বহু নারী ও শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছে। গাজা সিটির এমএসএফ মোবাইল ক্লিনিকের নার্স জাহের বলেন, তারা এক নারীকে পায়ের ক্ষত নিয়ে এবং নয় বছর বয়সী এক শিশুকে মুখে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় চিকিৎসা দেন।
গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ মালাকা বলেন, তিনি দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। ‘চোখ খুলে দেখি বাবা মাটিতে পড়ে আছেন, আমার তিন ভাইও রক্তে ভেজা অবস্থায় পড়ে আছে। চারদিকে ধুলো আর চিৎকার— তাঁবুগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’
গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা এখনও পরিস্থিতিকে গুরুতর করে তুলছে। শীতের এই সময়ে প্রয়োজনীয় তাবু ও সরঞ্জামও পর্যাপ্তভাবে পৌঁছাতে পারছে না। ইউনিসেফের পিরেস বলেন, বহু শিশু এখনো খোলা আকাশের নিচে ঘুমাচ্ছে— ভেজা, ঠান্ডা ও অস্থায়ী আশ্রয়ে ভয়ে কাঁপছে।
তিনি বলেন, ‘গাজার শিশুদের জন্য সত্য খুবই সরল: তাদের জন্য কোথাও নিরাপদ জায়গা নেই। তাদের কষ্টকে আর স্বাভাবিক হিসাবে দেখলে চলবে না।’ তিনি আরও সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানান।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/