দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীন আবারও জাপানের সব ধরনের সামুদ্রিক খাদ্য আমদানি বন্ধ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে জাপানের গণমাধ্যম। দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এনএইচকে এবং কিয়োদো নিউজ জানায়, চলতি মাসের শুরুর দিকে চীন যে সামুদ্রিক খাদ্যের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল, সেটিই আবার ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। ২০২৩ সালে ফুকুশিমা পারমাণবিক কেন্দ্র থেকে পরিশোধিত বর্জ্য পানি সমুদ্রে ছাড়ার পর বেইজিং প্রথম নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিয়োদোর খবরে বলা হয়, চীন জাপানকে জানিয়েছে— ফুকুশিমা থেকে সমুদ্রে ছাড়া পানির আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, তাই আবার নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে তারা।
তবে নিষেধাজ্ঞা এমন সময়ে আসছে, যখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সাম্প্রতিক বক্তব্যে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। ৭ নভেম্বর তিনি সংসদে বলেন, তাইওয়ানে চীনের সামরিক হামলা যদি জাপানের নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে, তবে টোকিও সামরিক জবাব দিতে পারে।
চীন এই মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে। চীনের কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম কঠোর প্রতিক্রিয়া জানালে জাপানও চীনে অবস্থানরত নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলে। ওসাকার চীনা কনসাল জুয়ে জিয়ান তো এক পোস্টে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহার করেন, যা নিয়ে টোকিও বেইজিংয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।
সংকট নিরসনে মঙ্গলবার বেইজিংয়ে আলোচনায় বসেন জাপানের এশিয়া-প্যাসিফিক বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা মাসাকি কানাই এবং চীনের লিউ জিনসং। তবে বৈঠকে কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি বলে দুই পক্ষই জানায়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে, তাকাইচির বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে এবং দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
চীনের টেলিভিশন প্রতিবেদনে দেখা যায়, বৈঠক শেষে দুই কূটনীতিক হাত মেলাননি— যা উত্তেজনার ইঙ্গিত দেয়। লিউ জিনসং সাংবাদিকদের জানান, তিনি বৈঠকের ফলাফল নিয়ে ‘খুবই অসন্তুষ্ট’।
নিষেধাজ্ঞার আগে জাপানের মোট সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানির এক-পঞ্চমাংশেরও বেশি যেত চীনে।
এ ঘটনায় চলচ্চিত্র খাতও প্রভাবিত হয়েছে। চায়না ফিল্ম নিউজ জানিয়েছে, উত্তেজনার কারণে দুটি আমদানি করা জাপানি সিনেমার মুক্তি স্থগিত করা হয়েছে। ছবিগুলো ২২ নভেম্বর ও ৬ ডিসেম্বর মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/