দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীনের সবচেয়ে আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ফুজিয়ান’ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে জাঁকজমকপূর্ণ কমিশনিং অনুষ্ঠানের পর রণতরীটি আনুষ্ঠানিকভাবে সেবায় প্রবেশ করেছে।
‘ফুজিয়ান’ হলো চীনের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী, যা অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট সিস্টেমে সজ্জিত। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধবিমানগুলোকে আরও দ্রুতগতিতে আকাশে উড্ডয়ন করানো সম্ভব হবে।
এই রণতরীর সংযোজন চীনের নৌক্ষমতায় এক বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে জাহাজের সংখ্যার দিক থেকে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় নৌবাহিনীর অধিকারী। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দেশটি দ্রুত গতিতে নৌবাহিনী সম্প্রসারণ করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ফুজিয়ান একসঙ্গে তিন ধরনের বিমান উৎক্ষেপণ করতে পারে। সমতল ফ্লাইট ডেক এবং ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট ব্যবস্থার কারণে এটি ভারী অস্ত্র ও জ্বালানিবাহী যুদ্ধবিমান বহন করতে সক্ষম। ফলে এর হামলা-পরিসর ও ক্ষমতা আগের দুই রণতরী ‘লিয়াওনিং’ ও ‘শানদং’-এর তুলনায় অনেক বেশি। উল্লেখ্য, ওই দুটি রণতরী রাশিয়ার নির্মিত।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফুজিয়ানকে দেশের নৌবাহিনীর উন্নয়নে ‘একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক’ বলে বর্ণনা করেছে।
বিশ্বে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যার বিমানবাহী রণতরীতে ফুজিয়ানের মতো ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপল্ট প্রযুক্তি রয়েছে।
দক্ষিণ চীনের হাইনান প্রদেশে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শি জিনপিং রণতরীর ডেক পরিদর্শন করেন এবং সমুদ্রে এর কর্মক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য শোনেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, ফুজিয়ানে এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করার সিদ্ধান্তটি ব্যক্তিগতভাবে শি জিনপিংই নিয়েছিলেন।
অনুষ্ঠানে শি জিনপিং নাবিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা সবাই একসঙ্গে স্যালুট দিয়ে স্লোগান দেন— ‘দলের নির্দেশ অনুসরণ করো, বিজয়ের জন্য লড়ো, উত্তম চরিত্র বজায় রাখো।’
সূত্র: বিবিসি
এমএস/