দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও পরস্পরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলার মধ্যে, ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাস রবিবার আরও তিন জিম্মার মৃতদেহ ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করেছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, রেড ক্রসের মাধ্যমে গাজা থেকে তিন জিম্মার মরদেহসম্বলিত কফিন ইসরায়েলি বাহিনীর কাছে পৌঁছেছে। মরদেহগুলো শনাক্তের জন্য ইসরায়েলে পাঠানো হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো সেই ১১ জিম্মার মধ্যে তিনজন, যাদের দেহ ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল বলছে, হামাস মৃতদেহ হস্তান্তরে বিলম্ব করছে, আর হামাসের দাবি— কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তারা যত দ্রুত সম্ভব কাজ করছে। এ নিয়েই যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিরতি চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন আটকে আছে।
এর আগে রবিবার সকালে গাজার উত্তরাংশে ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন নিহত হন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করে, ওই হামলায় তাদের বাহিনীকে হুমকি দেওয়া এক যোদ্ধাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। গাজার আল-আহলি হাসপাতাল জানায়, গাজা সিটির শেজায়া এলাকার এক সবজির বাজারের কাছে হামলায় একজন নিহত হন।
জেরুজালেমে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘গাজায় আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতেও এখনো হামাসের কিছু ঘাঁটি আছে, আমরা সেগুলো ধাপে ধাপে নির্মূল করছি।’
অন্যদিকে হামাস ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। গাজার হামাস-পরিচালিত সরকারের গণমাধ্যম কার্যালয়ের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওবতা দাবি করেন, হামাস যোদ্ধারা যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেনি।
এই যুদ্ধবিরতির পর গাজায় লড়াই অনেকটাই থেমে গেছে, ফলে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি নিজেদের ভেঙে যাওয়া ঘরে ফিরে যেতে পেরেছে। ইসরায়েল শহরাঞ্চল থেকে কিছু সেনা প্রত্যাহার করেছে এবং আরও বেশি মানবিক সহায়তা ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, হামাস গাজায় থাকা ২০ জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে এবং এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দিয়েছে। এছাড়া হামাস ২৮ জন নিহত জিম্মার মরদেহ ফেরত দিতে সম্মত হয়েছে, বিনিময়ে ইসরায়েল ৩৬০ জন নিহত ফিলিস্তিনি যোদ্ধার দেহ ফেরত দেবে। এর মধ্যে রবিবার পর্যন্ত হামাস ১৭টি মরদেহ হস্তান্তর করেছিল।
তবে সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ২৩৬ জন নিহত হয়েছেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই একদিনে নিহত হন ইসরায়েলের প্রতিশোধমূলক হামলায়। ইসরায়েল জানায়, তাদেরও তিন সৈন্য নিহত হয়েছে এবং বহু হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হয়েছে। দুই পক্ষই ওয়াশিংটনের কাছে অভিযোগ তুলেছে যে অপর পক্ষ যুদ্ধবিরতি মানছে না।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন ইসরায়েলি সামরিক প্রধান এয়াল জামিরের সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেন।
নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সব কার্যক্রমই ওয়াশিংটনকে জানানো হয়। তবে হামাসের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
প্রায় ২০০ মার্কিন সেনা বর্তমানে দক্ষিণ ইসরায়েলে অবস্থান করছে যুদ্ধবিরতি তদারকি ও গাজায় ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী গঠনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য।
যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে এখনো তেমন অগ্রগতি হয়নি। হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সূচি নিয়ে বড় বাধা রয়ে গেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/