দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হারিকেন মেলিসার আঘাতে জ্যামাইকার ব্ল্যাক রিভার শহরে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। শহরের রাস্তায় এখন মানুষ খাবারের খোঁজে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ কেউ ভেঙে যাওয়া দোকানে ঢুকে বোতলজাত পানি বা খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, হারিকেনের কয়েক দিন পরও সেখানে মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকে এখনও তাদের স্বজনদের খুঁজে পাচ্ছেন না। ব্ল্যাক রিভারের বাসিন্দারা বলছেন, গত তিন দিন ধরে তারা একেবারে বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছেন। ক্যাটাগরি-৫ মাত্রার ভয়ংকর মেলিসা পুরো শহরটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
ঝড়ের প্রচণ্ড বাতাস ও জলোচ্ছ্বাস সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। রাস্তাগুলো অচল হয়ে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বন্ধ। উল্টে থাকা নৌকা, ভেঙে যাওয়া ভবন, গাছের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা লোহার পাত, ছিন্নবিচ্ছিন্ন গাড়ি—সব মিলিয়ে এক মৃত্যুপুরীর মতো অবস্থা।
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত সেখানে কোনো ত্রাণ পৌঁছায়নি। বাধ্য হয়ে তারা রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের ভেতর থেকে খাবার খুঁজছেন। কেউ কেউ ভাঙা সুপারমার্কেটে ঢুকে খাবার ও পানি সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় এক বাসিন্দা ডেমার ওয়াকার বলেন, ‘আমরা যা পাচ্ছি, তাই খাচ্ছি। সুপারমার্কেটের ছাদ ভেঙে পড়েছিল, তাই আমরা ভেতরে ঢুকে কিছু খাবার ও পানি বের করে সবাইকে ভাগ করে দিয়েছি। স্বার্থপর হতে পারিনি, সবাইকে দিতে হয়েছে।’
এদিকে ব্ল্যাক রিভারের একটি ফার্মেসি লুট হওয়ায় আরও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মানুষ সেখানে ওষুধ ও অ্যালকোহল নিয়ে পালাচ্ছিল।
স্থানীয় এক নারী বিবিসিকে বলেন, ‘পুরো শহরে বিশৃঙ্খলা, বিশুদ্ধ পানি নেই, খাবার নেই। ব্যাংকও বন্ধ, কারও হাতে টাকা নেই। আমরা সাহায্য চাই, কিন্তু এখনও কেউ আসেনি।’
অনেক দোকানদার জানিয়েছেন, তাদের দোকানগুলো লুট হয়ে গেছে। কেউ কেউ এখন নিজেদের দোকানের সামনে পাহারা দিচ্ছেন, যাতে আবার চুরি না হয়।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/