দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে আগামী ১০ বছরের জন্য একটি প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের বৈঠকের পর এ চুক্তি ঘোষণা করা হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ মাইক্রোব্লগিং সাইট এক্সে বলেন, ‘চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যে সমন্বয়, তথ্য আদান-প্রদান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াবে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।’
ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি আমাদের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ঐকমত্যের ইঙ্গিত এবং অংশীদারিত্বের একটি নতুন দশককে তুলে ধরবে। প্রতিরক্ষা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের প্রধান স্তম্ভ। মুক্ত, অবাধ ও নিয়মনীতি-ভিত্তিক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিশ্চিত করতে আমাদের অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
চুক্তিটি এমন সময় স্বাক্ষরিত হলো যখন দুই দেশ বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বমোট ৫০% শুল্ক আরোপ করায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রমিত পাল চৌধুরী বলেন, চুক্তিটি মূলত জুলাই-আগস্টে চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে ট্রাম্পের বক্তব্যের কারণে বিলম্ব হয়। তিনি বলেন, নতুন চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ সহজ হয়েছে, ভারতের জন্য প্রযুক্তি পাওয়া সহজ হয়েছে এবং প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় প্রতিরক্ষা ছিল আলোচনার প্রধান বিষয়। তখন ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কিনবে, যা ভবিষ্যতে ভারতকে এফ-৩৫ স্টিলথ যুদ্ধবিমান দেওয়ার পথও খুলে দিতে পারে।
ভারতের সবচেয়ে বড় অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ হলো রাশিয়া। তবে সরবরাহ কমছে, কারণ ভারত অন্য দেশের দিকে ঝুঁকছে এবং দেশের ভেতরেই অস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে চাচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার সম্ভাব্যতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
দুই দেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে, যা নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
এমএস/