দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফায় সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১১ জানুয়ারি। বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানায়। পশ্চিমা দেশগুলো, জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নোবেলজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে। এরপর থেকেই দেশজুড়ে অস্থিরতা ও সশস্ত্র প্রতিরোধ চলছে। গণতন্ত্রপন্থি অনেক দলকেই হয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নয়তো তারা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। সামরিক জান্তার প্রধান মিন অং হ্লাইং আগেই স্বীকার করেছেন, নির্বাচন সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে না।
দ্বিতীয় দফার ভোট প্রথম দফার দুই সপ্তাহ পর, অর্থাৎ ২৮ ডিসেম্বরের পর অনুষ্ঠিত হবে। এটি দেশজুড়ে ১০০টি টাউনশিপে অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের কয়েকটি এলাকা।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘কেউই বিশ্বাস করে না যে মিয়ানমারের এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে।’
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ সদস্যভুক্ত আসিয়ান জোট স্বীকার করেছে, তারা মিয়ানমারের নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না। তবে আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নির্বাচনটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায্যভাবে অনুষ্ঠিত হোক—এই আহ্বান জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নতুন প্রতিরোধ বাহিনী তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের বহু এলাকা সেনাদের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করেছে।
দেশটির ডিসেম্বরের আদমশুমারি প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩৩০টি টাউনশিপের মধ্যে মাত্র ১৪৫টিতে সরাসরি জনগণনা চালিয়ে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করতে পেরেছে সেনা সরকার। এতে মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যা ধরা হয়েছে ৫ কোটি ১৩ লাখ।
অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) ও আরও ৩৯টি দলকে দুই বছর আগে নির্বাচনে নিবন্ধন না করার অভিযোগে বাতিল ঘোষণা করেছে সেনানিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/