দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্যারিসের লুভর মিউজিয়াম থেকে দিনদুপুরে চুরি হওয়া গহনার মূল্য ৮৮ মিলিয়ন ইউরো বলে জানিয়েছেন ফরাসি প্রসিকিউটর। তিনি মিউজিয়ামের কিউরেটরের তথ্যমূলক মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন।
কিউরেটর লরে বেককো আরটিএল রেডিওকে বলেছেন, এই পরিমাণ অনেক বেশি, তবে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যটাই সবচেয়ে বড় ক্ষতি। চুরির মধ্যে ছিল নেপোলিয়নদের স্ত্রীদের উপহার দেওয়া ক্রাউন জুয়েলস এবং অন্যান্য মূল্যবান গহনা।
মিউজিয়াম খোলার কিছু সময় পরই চোরেরা পাওয়ার টুল ব্যবহার করে মাত্র আট মিনিটে এ চুরি সম্পন্ন করে।
চুরির দুই দিন অতিবাহিত হলেও চোরদের এখনও ধরা যায়নি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, গহনা ইতিমধ্যেই দেশে বা বিদেশে বিক্রি হয়ে গেছে।
বেককো জানান, চুরির সম্ভাব্য মূল্য ঘোষণা করলে চোররা হয়তো গহনা ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নিতে ভেবে দেখবে। তিনি বলেন, যদি তারা গহনা গলিয়ে ফেলার ‘ভীষণ ভুল’ করতে চায়, তবে তারা সম্পূর্ণ লাভ পাবে না।
চুরি হওয়া গহনার মধ্যে রয়েছে নেপোলিয়ন সম্রাটের স্ত্রীকে দেওয়া হীরা ও এমেরাল্ডের নেকলেস, সম্রাজ্ঞী ইউজেনির টিয়ারা এবং রাজকুমারী মেরি-আমেলির বিভিন্ন মূল্যবান গহনা।
অনুসন্ধানকারীরা চোরদের পালানোর পথে একটি ক্ষতিগ্রস্ত ক্রাউন উদ্ধার করেছেন, সম্ভবত তারা দ্রুত পালানোর সময় এটি ফেলে গেছে।
চারজন মুখোশধারী চোর একটি ট্রাক ব্যবহার করে অ্যাপোলোন গ্যালারিতে ব্যালকনির মাধ্যমে প্রবেশ করে। দুইজন প্রথম তলায় কাঁচের জানালা কেটে ভিতরে প্রবেশ করে। তারা ভেতরের রক্ষীদের ভয় দেখিয়ে মিউজিয়াম ত্যাগ করায়।
চোরেরা বাহিরে গাড়িতে আগুন ধরানোর চেষ্টা করলেও মিউজিয়ামের একজন কর্মীর হস্তক্ষেপে তা রোধ হয়। পরে তারা স্কুটারে পালিয়ে যায়।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমম্যানুয়েল ম্যাক্রন চুরিটিকে ‘ফ্রান্সের ঐতিহ্যের ওপর আক্রমণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
চুরির তদন্তে জানা গেছে, লুভরের এক-তৃতীয়াংশ কক্ষে সিসিটিভি ছিল না এবং বাকি অ্যালার্ম সিস্টেমও কাজ করেনি। জাস্টিস মন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন বলেন, নিরাপত্তা প্রটোকল ‘ব্যর্থ’ হয়েছে এবং চোরেরা ট্রাক নিয়ে সরাসরি মিউজিয়ামে প্রবেশ করতে পারায় ফ্রান্সের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চোরেরা পেশাদার দল। তারা খুব দ্রুত ও সুসংগঠিতভাবে কাজ করেছে।
আর্ট রিকভারি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, গহনা উদ্ধার করতে তদন্তকারীদের মাত্র এক বা দুই দিন সময় ছিল। সম্ভাবনা রয়েছে, চোরেরা গহনা গলিয়ে মূল্যবান ধাতু ও রত্ন বের করে দেশে বা বিদেশে বিক্রি করেছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/