দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফ্রান্সের বিখ্যাত ল্যুভর জাদুঘরে দিনের আলোয় ঘটে যাওয়া ডাকাতির ঘটনায় দেশজুড়ে সব সাংস্কৃতিক স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা ও জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
সোমবার চারজন ডাকাতকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।
ডাকাতরা একটি ক্রেন ব্যবহার করে ল্যুভরের উপরের তলার জানালা ভেঙে ভিতরে ঢোকে এবং ফরাসি রাজমুকুটের অলংকার রাখা অংশ থেকে কয়েকটি অমূল্য গয়না চুরি করে মোটরবাইকে করে পালিয়ে যায়। ফরাসি সংবাদমাধ্যমগুলো ঘটনাটিকে বলছে ‘শতাব্দীর সেরা ডাকাতি’। রোববার সকালে সংঘটিত এই চুরির পর থেকে ল্যুভর জাদুঘর বন্ধ রয়েছে।
জাদুঘরটির নিরাপত্তা নিয়ে এখন ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জাদুঘরে মোনালিসাসহ অগণিত বিখ্যাত শিল্পকর্ম রয়েছে, যেখানে গত বছরই ৮৭ লাখ দর্শনার্থী এসেছিলেন।
ফরাসি বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড ডারমানিন বলেন, এই চুরির ঘটনায় ফ্রান্সের ভাবমূর্তি ‘লজ্জাজনকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্যারিসের রাস্তায় কেউ ক্রেন ট্রাক এনে কয়েক মিনিটেই অমূল্য অলংকার চুরি করে নিতে পেরেছে—এটা আমাদের ব্যর্থতা।’
সাংস্কৃতিক ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক যৌথ বৈঠকে দেশজুড়ে সব সাংস্কৃতিক স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন ও প্রয়োজনে জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী রাশিদা দাতি বলেন, ‘আমরা এতদিন দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার দিকে মনোযোগ দিয়েছি, কিন্তু শিল্পকর্মের নিরাপত্তাকে অবহেলা করেছি।’
প্যারিসের প্রসিকিউটর লর বেকু জানিয়েছেন, চারজন ডাকাত মাত্র ছয় থেকে সাত মিনিটে এই ডাকাতি সম্পন্ন করে। তারা অস্ত্রহীন ছিল, তবে নিরাপত্তাকর্মীদের অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার দিয়ে ভয় দেখায়।
ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফ্রান্সের বিশেষ পুলিশ ইউনিটকে, যারা অতীতে বেশ কয়েকটি আলোচিত ডাকাতির ঘটনা উদ্ঘাটন করেছে।
ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি দলের নেতা জর্দান বারদেল্লা বলেছেন, ‘এটি ফ্রান্সের জন্য এক অসহনীয় অপমান। রাষ্ট্রের পতন আর কতদূর যাবে?’
অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টির ফ্রাঁসোয়া জাভিয়ে বেলামি বলেন, ‘এটি আমাদের ঐতিহ্য রক্ষায় রাষ্ট্রের অক্ষমতার প্রতিফলন।’
চুরি হওয়া অলংকারের মধ্যে ছিল রানী মেরি আমেলি ও রানী হোর্তেন্সের উনিশ শতকের টায়ারা ও নীলকান্তমণির দুলের একটি জোড়া। তবে পালানোর সময় চোরেরা সম্রাজ্ঞী ইউজেনির সোনার, হীরা ও পান্না বসানো মুকুটটি ফেলে যায়, যা জাদুঘরের বাইরে উদ্ধার করা হয়।
ল্যুভর সোমবারও বন্ধ ছিল। কলম্বিয়ার পর্যটক স্যামুয়েল জয়া বলেন, ‘এক মাস আগে টিকিট কিনেছিলাম, কিন্তু ঢুকতে পারলাম না—খুবই দুঃখজনক।’
মার্কিন পর্যটক মেরিয়েন ডে বলেন, ‘এমন মর্যাদাসম্পন্ন জাদুঘরে এমন নিরাপত্তা ব্যর্থতা বিশ্বাস করা কঠিন।’
শিল্পকর্ম উদ্ধারে কাজ করা প্রতিষ্ঠান *আর্ট রিকভারি ইন্টারন্যাশনাল*-এর প্রতিষ্ঠাতা ক্রিস্টোফার মারিনেলো বলেন, ‘যদি ল্যুভরের মতো বিশ্বসেরা অর্থায়নপ্রাপ্ত জাদুঘরও আক্রান্ত হয়, তবে পৃথিবীর কোনো জাদুঘরই নিরাপদ নয়।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/