দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সরে যাওয়ার পর গাজার নিয়ন্ত্রণ পুনর্গঠনে হামাস প্রায় ৭,০০০ সদস্যকে পুনরায় ডেকে নিয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো এ খবর জানিয়েছে।
সংগঠনটি সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পাঁচজন নতুন গভর্নরও নিয়োগ দিয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজন আগে হামাসের সশস্ত্র শাখার ব্রিগেড কমান্ডার ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফোন কল ও খুদেবার্তার মাধ্যমে হামাসের সদস্যদের এই নির্দেশ পাঠানো হয়। বার্তায় বলা হয়, উদ্দেশ্য হলো ‘ইসরায়েলের সহযোগী ও আইনবহির্ভূত ব্যক্তিদের গাজা থেকে পরিষ্কার করা’ এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবাইকে রিপোর্ট করতে বলা হয়।
এদিকে, গাজা জুড়ে হামাসের সশস্ত্র সদস্যরা ইতোমধ্যেই মোতায়েন হয়েছে। কেউ কেউ বেসামরিক পোশাকে, আবার কেউ পুলিশের নীল ইউনিফর্মে। তবে হামাসের গণমাধ্যম শাখা দাবি করেছে, আমরা রাস্তায় যোদ্ধা মোতায়েন করছি না।’
উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে যখন হামাসের এলিট ইউনিটের দুই সদস্যকে গাজার সাবরা এলাকায় দুগমুশ গোত্রের সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি করে হত্যা করে। নিহতদের একজন ছিলেন হামাস সামরিক গোয়েন্দা প্রধান ইমাদ আকেলের ছেলে।
তাদের মরদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে হামাসের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে হামাস যোদ্ধারা এলাকাটি ঘিরে ফেলে, যেখানে ধারণা করা হয় ৩০০-এর বেশি দুগমুশ যোদ্ধা ভারী অস্ত্র ও বিস্ফোরক নিয়ে অবস্থান করছিল।
সকালে হামাস এক দুগমুশ সদস্যকে হত্যা করে এবং আরও ৩০ জনকে অপহরণ করে বলে জানা যায়।
দুগমুশদের কিছু অস্ত্র যুদ্ধের সময় হামাসের গুদাম থেকে লুট করা, আর কিছু বহু বছর ধরে তাদের কাছে ছিল।
যুদ্ধ শেষে গাজা কে শাসন করবে—এই প্রশ্ন ঘিরে অনিশ্চয়তা বেড়ে চলেছে। এই অবস্থায় হামাসের সাম্প্রতিক তৎপরতা ছিল আগেই অনুমান করা বিষয়।
এই ইস্যুটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপকে জটিল করতে পারে, কারণ পরিকল্পনাটিতে হামাসকে অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
একজন বিদেশে অবস্থানরত হামাস কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা গাজাকে চোর ও ইসরায়েল-সমর্থিত মিলিশিয়ার হাতে ছেড়ে দিতে পারি না। আমাদের অস্ত্র দখল নয়—অধিকার, যতদিন দখলদারিত্ব চলবে।’
গাজায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রাক্তন এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, ‘হামাস এখনও বিশ্বাস করে অস্ত্র ও সহিংসতাই টিকে থাকার একমাত্র উপায়। গাজা এখন অস্ত্রে ভরা। যুদ্ধের সময় হাজার হাজার অস্ত্র লুট হয়েছে, কিছু এমনকি ইসরায়েল থেকেও এসেছে। এটা গৃহযুদ্ধের জন্য এক নিখুঁত রেসিপি—অস্ত্র, হতাশা, বিশৃঙ্খলা ও ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে মরিয়া এক দল।’
গাজার মানবাধিকারকর্মী খলিল আবু শামালা বলেন, ‘হামাস কি শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে, নাকি বাধা দেবে—এখনো স্পষ্ট নয়। অনেক গাজাবাসী অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের আশঙ্কায় আতঙ্কিত। হামাস চাপের মুখে শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিয়েছে, কিন্তু যদি তারা আবারও ক্ষমতা ধরে রাখতে নিরাপত্তা বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, তাহলে চুক্তি বিপদে পড়বে এবং সাধারণ মানুষ আরও কষ্টে পড়বে।’
সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই এই ঘটনাগুলো গাজায় নতুন উদ্বেগ ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে।
দুই বছরের বিধ্বংসী সংঘাতের পর গাজার ক্লান্ত জনগণ এখন আশঙ্কা করছে নতুন করে যেন অভ্যন্তরীণ রক্তপাত শুরু না হয়।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/