দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, আফগান সীমান্তে তালেবানদের হামলার পর পাল্টা সংঘর্ষে ২৩ জন পাকিস্তানি সেনা শহীদ হয়েছেন এবং অন্তত ২০০ তালেবান ও সংশ্লিষ্ট জঙ্গি নিহত হয়েছে।
রোববার (১২ অক্টোবর) আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানায়, ১১ ও ১২ অক্টোবর রাতের দিকে আফগান তালেবান ও “ভারত-সমর্থিত খারেজি জঙ্গিরা’ আকস্মিকভাবে পাকিস্তান সীমান্তে হামলা চালায়। এর জবাবে পাকিস্তানি বাহিনী পাল্টা
আক্রমণ চালায়।
আইএসপিআর বলেছে, ‘রাতভর সংঘর্ষে দেশের সীমান্ত রক্ষায় লড়াই করে ২৩ জন সাহসী সেনা সদস্য শাহাদাত বরণ করেন এবং ২৯ জন আহত হন। পাল্টা অভিযানে অন্তত ২০০ তালেবান ও তাদের মিত্র সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে।’
আফগানিস্তান দাবি করেছে, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা এই আক্রমণ চালিয়েছে। তবে ইসলামাবাদ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কাবুলের উচিত তাদের ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানবিরোধী তেহরিক-ই-
তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) জঙ্গিদের কার্যক্রম বন্ধ করা।
আইএসপিআর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আফগানিস্তানের বা কাপুরুষোচিত এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল সীমান্ত অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে সন্ত্রাসীদের সহায়তা করা।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, আফগান বাহিনী বিনা প্ররোচনায় সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে গোলাবর্ষণ করে—এর মধ্যে ছিল আঙুরআড্ডা, বাজউর, কুররম, দির, চিত্রাল (খাইবার পাখতুনখাওয়া) এবং বাহরাম চাহ
(বেলুচিস্তান)।
আইএসপিআর জানায়, ‘আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সীমান্তজুড়ে আক্রমণ প্রতিহত করে এবং তালেবান ও তাদের মিত্রদের ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটায়।’
পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, নিখুঁত হামলা ও বিমান আঘাতে তালেবানদের ঘাঁটি, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও সহায়তা নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়। এসব অভিযানে সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযানে আফগান সীমান্তের ভেতরে ২১টি শত্রু অবস্থান দখল করা হয় এবং একাধিক সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণ শিবির অচল করে দেওয়া হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, ‘তালেবান পোস্ট, ঘাঁটি ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পাকিস্তান শান্তি ও কূটনীতির পক্ষে, তবে আফগান মাটিকে সন্ত্রাসবাদের জন্য ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না।
আইএসপিআর উল্লেখ করে, ‘আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি—এই উস্কানিমূলক হামলাটি এমন সময় ঘটল, যখন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের সফরে রয়েছেন, যে দেশটি অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক।’
পাকিস্তান তালেবান সরকারকে আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন দ্রুত ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নিয়ে তাদের ভূখণ্ডে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো—টিটিপি, ফিতনা-আল-খারেজি, ফিতনা-আল-হিন্দুস্তান ও দায়েশ—নিষ্ক্রিয় করে।
অন্যথায়, বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়, পাকিস্তান নিজেদের জনগণকে রক্ষায় সন্ত্রাসী ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে অভিযান অব্যাহত রাখবে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন পিটিভি জানায়, পাকিস্তান সেনাবাহিনী আফগানিস্তানের দুররানি ক্যাম্প, মানোজবা ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তর, নোশকি সেক্টরের গজনালি হেডকোয়ার্টারসহ বেশ কয়েকটি তালেবান ঘাঁটিতে সফল আক্রমণ
চালিয়েছে। এতে বহু তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়।
স্পিন বোলডাকের ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ’ আসমাতুল্লাহ করর ক্যাম্পও ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা সূত্র। এ ঘাঁটিটিই ছিল পাকিস্তানবিরোধী কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র।
পাকিস্তানের সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ঝোব সেক্টরের একটি আফগান পোস্ট দখল করে সেখানে পাকিস্তানের পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
একইসঙ্গে কুররম সীমান্তের বিপরীতে পাহাড়চূড়ায় থাকা আফগান ট্যাংক অবস্থানগুলোও ধ্বংস করা হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইএসপিআর তাদের বিবৃতি শেষ করে বলেছে, ‘গত রাতের ঘটনা প্রমাণ করেছে, আফগান তালেবান সরকার সন্ত্রাসীদের সক্রিয়ভাবে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে। যদি তারা ভারতজোটে থেকে এই অঞ্চলের স্থিতি নষ্ট করতে চায়, তাহলে
পাকিস্তানের জনগণ ও রাষ্ট্র সন্ত্রাসের এই উৎস পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত থামবে না।’
সূত্র: দ্যা ডন
এমএস/