দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তহবিলের তীব্র সংকটের কারণে জাতিসংঘ আগামী মাসগুলোতে বিশ্বজুড়ে তাদের নয়টি শান্তিরক্ষা মিশনে এক-চতুর্থাংশ শান্তিরক্ষী কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার শান্তিরক্ষী ও পুলিশ সদস্যকে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ অবদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
জাতিসংঘের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমাদের মোট শান্তিরক্ষী সৈন্য ও পুলিশের প্রায় ২৫ শতাংশকে তাদের সরঞ্জামসহ দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
জাতিসংঘের এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ সংস্থাটির সবচেয়ে বড় দাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়া। যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা তহবিলের প্রায় ২৬ শতাংশ জোগান দিয়ে থাকে, আর চীন রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে প্রায় ২৪ শতাংশ অবদান নিয়ে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জুলাই নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সংস্থাটির ১.৫ বিলিয়ন ডলার বকেয়া ছিল। নতুন বকেয়া যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে এই পাওনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যদিও যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করেছে যে শিগগিরই ৬৮০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হবে, তবে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সংকট কাটেনি।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কংগ্রেসকে পাঠানো এক বার্তায় জানিয়েছে, ট্রাম্প গত আগস্টে একতরফাভাবে ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৮০০ মিলিয়ন ডলারের শান্তিরক্ষা তহবিল বাতিল করেছেন।
এই সিদ্ধান্তের ফলে দক্ষিণ সুদান, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, লেবানন, কসোভো, সাইপ্রাস, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, পশ্চিম সাহারা, গোলান মালভূমি ও আবেঈ অঞ্চলের শান্তিরক্ষা মিশনগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ এ বছর তাদের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলমান আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সার্বিকভাবে দক্ষতা বৃদ্ধি ও ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
/অ