দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষ কর্মী ভিসা এইচ-১বি আবেদনকারীদের জন্য নতুন করে এক লাখ ডলার (প্রায় ৮৮ লাখ রুপি) ফি নির্ধারণ করায় এর ‘মানবিক প্রভাব’ পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে ভারত সরকার।
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, এই ফি ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। বর্তমানে এই ফি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫০০ ডলার, অর্থাৎ নতুন ফি আগের চেয়ে ৬০ গুণ বেশি।
এইচ-১বি ভিসায় সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়ে থাকে ভারতীয়রা। প্রায় ৭০ শতাংশ ভিসাই ভারতীয়দের হাতে যায়।
শনিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এত বেশি ফি আদায় করলে পরিবারগুলো ভিসা জটিলতায় পড়বে এবং মানবিক সংকট তৈরি হবে। তারা আশা প্রকাশ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেবে।
ভারত আরও বলেছে, দক্ষ কর্মীদের এই বিনিময় দুই দেশের জন্যই অনেক উপকার বয়ে এনেছে, বিশেষ করে ‘মানুষে-মানুষে সম্পর্ক’ তৈরি করেছে।
হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, অনেক প্রতিষ্ঠান এইচ-১বি ভিসার অপব্যবহার করে আমেরিকান কর্মীদের বেতন কমিয়ে দেয় ও আইটি খাতের চাকরি আউটসোর্স করে। তাই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে জাতীয় স্বার্থে হলে ‘কেস-বাই-কেস ভিত্তিতে ছাড়’ দেওয়া যেতে পারে।
ভারতের শীর্ষ প্রযুক্তি সংস্থা নাসকম জানিয়েছে, এত অল্প সময়ের মধ্যে এমন সিদ্ধান্তে বিশ্বজুড়ে ব্যবসা, পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪ লাখ এইচ-১বি ভিসা অনুমোদিত হয়, যার মধ্যে ২ লাখ ৬০ হাজার ছিল নবায়ন। চলতি বছরে সবচেয়ে বেশি ভিসা পেয়েছে অ্যামাজন (১০,০৪৪টি), এরপর ভারতের টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস—টিসিএস (৫,৫০৫টি)।
অ্যামাজন, মাইক্রোসফট ও জেপি মরগান তাদের কর্মীদের সতর্ক করে বলেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আছেন তারা যেন দেশে থাকেন, আর যারা বাইরে আছেন তারা দ্রুত ফিরে আসার চেষ্টা করেন। অ্যামাজনের অভ্যন্তরীণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেউ যদি নির্ধারিত সময়ের আগে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে না পারেন, তবে নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত দেশে ফেরার চেষ্টা না করতে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/