দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসাম ব্রিগেডস গাজায় আটক ৪৮ ইসরায়েলি বন্দির একটি “বিদায়ী ছবি’ প্রকাশ করেছে। ইসরায়েলি সেনারা যখন গাজা সিটির বড় অংশ ধ্বংস করছে ও দখলে নিচ্ছে, তখন এই ছবি সামনে আসে।
শনিবার অনলাইনে প্রকাশিত ছবিতে জীবিত ও মৃত সব বন্দির মুখ দেখানো হয়। প্রতিটি ছবির নিচে লেখা ছিল “রন আরাদ’—১৯৮৬ সালে লেবাননে নিখোঁজ হওয়া এক ইসরায়েলি বিমান কর্মকর্তার নাম, যার ভাগ্য আজও অজানা।
ছবির সঙ্গে হামাস লিখেছে: ‘নেতানিয়াহুর অস্বীকৃতি আর জামিরের সমঝোতার কারণে, গাজা সিটিতে সামরিক অভিযান শুরুর সাথে এই বিদায় ছবি।’
এখানে ইঙ্গিত করা হয়েছে—প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বারবার বন্দি বিনিময় চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সেনাপ্রধান এয়াল জামির সরকারের গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত তা মেনে নিয়েছেন।
ইসরায়েল বলছে, গাজায় এখনো প্রায় ২০ জন বন্দি জীবিত থাকতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সংখ্যাটা হয়তো এর চেয়ে কম। হামাস হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইসরায়েলের তীব্র বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান বন্দিদের জীবন আরও ঝুঁকিতে ফেলছে। তাদের অনেককে ইতিমধ্যে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে।
হামাসের এই ছবিটি প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পরেই তেলআবিবসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নামার কথা ছিল। তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে এবং দ্রুত বন্দি ফেরাতে যুদ্ধবিরতির দাবি জানাচ্ছে।
গাজায় ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে ৬৫ হাজার ২০৮ জন ফিলিস্তিনি। আহত ১ লাখ ৬৬ হাজারের বেশি।
সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি ভাঙার পর (১৮ মার্চ থেকে) নিহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৫৩ জন। শুধু ত্রাণ নিতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ২,৫১৮ জন ফিলিস্তিনি।
এদিকে, ইসরায়েল পুরো গাজা সিটিকে যুদ্ধক্ষেত্র ঘোষণা করেছে। বাড়িঘর ধ্বংস হচ্ছে, অসংখ্য মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে, আর বহুসংখ্যক প্রাণ হারাচ্ছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
এমএস/