দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

মাত্র এক বছরেরও কম সময় ক্ষমতায় থাকার পর পদত্যাগ করলেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবা। টানা দুইটি নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নিয়ে রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) তিনি পদ ছাড়েন। তার আগেই শাসকদল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) তাকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। খবর বিবিসির।
এ নিয়ে গত পাঁচ বছরে জাপানে তিন জন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলেন। এর বাইরে দুইটি জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী প্রধানমন্ত্রীও মেয়াদ শেষ করতে পারেননি।
২০২৪ সালে ক্ষমতায় এসে ইশিবা অল্পদিনের মধ্যেই আগাম নির্বাচন দেন। তবে দুর্নীতি কেলেঙ্কারি, মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার ক্ষোভে ভোটাররা এলডিপিকে ইতিহাসের অন্যতম বড় পরাজয়ের স্বাদ দেন। এতে দলটি সংসদের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। প্রথমে পদ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালেও দলের ভেতরে চাপ বাড়তে থাকায় অবশেষে তিনি সরে দাঁড়ান।
এলডিপির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ভোট অক্টোবরে হওয়ার কথা। বিজয়ী প্রার্থীই হবেন পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। এখন পর্যন্ত যেসব নাম সবচেয়ে আলোচনায়—
শিনজিরো কোইজুমি (৪৪): কৃষিমন্ত্রী, সাবেক জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমির ছেলে। তরুণ, গণমাধ্যমবান্ধব এবং সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়। ইওশিমাসা হায়াশি (৬৪): বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব। অভিজ্ঞ ও পরিমিতপ্রাণ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। সানায়ে তাকাইচি (৬৪): সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জিতলে হবেন জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তিনি রক্ষণশীল ও সমলিঙ্গ বিয়ের বিরোধী।
তাদের বাইরে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি ও সাবেক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা মন্ত্রী তাকায়ুকি কোবায়াশির নামও শোনা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপান কার্যত একদলীয় গণতন্ত্র—যেখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা এলডিপির ভেতরেই। বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের মানুষকে প্রধানমন্ত্রী বানাতে চায়, ফলে ক্ষমতায় এলেই নতুন নেতাকে সরিয়ে দেওয়ার লড়াই শুরু হয়।
ফলে, প্রধানমন্ত্রীর পদ অনেকটা বিষের পেয়ালা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, ইশিবার উত্তরসূরি কি জাপানের স্বল্পস্থায়ী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার অভিশাপ ভাঙতে পারবেন, নাকি এ ধারাই চলতে থাকবে।
এমএস/