দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফ্রান্সে নতুন রাজনৈতিক সংকট শুরু হয়েছে। অনাস্থা ভোটে হেরে পদত্যাগ করতে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরুকে। এর ফলে অর্থনৈতিক চাপ আর বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে দেশটি সরকারহীন হয়ে পড়ল।
সিএনএন জানিয়েছে, সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সংসদে বাইরুর প্রস্তাবিত সঞ্চয় পরিকল্পনা নিয়ে ভোটাভুটি হয়। ৩৬৪ জন সংসদ সদস্য তার বিপক্ষে ভোট দেন, পক্ষে পড়েন ১৯৪ ভোট। সরকার টিকিয়ে রাখতে ন্যূনতম ২৮০ ভোট প্রয়োজন ছিল।
৪৪ বিলিয়ন ইউরোর সঞ্চয় পরিকল্পনায় সরকারি খরচ কমানো, দুটি সরকারি ছুটি বাতিল করা এবং ব্যয় স্থগিত রাখার প্রস্তাব ছিল। ব্যাপক সমালোচিত এই পরিকল্পনা টিকিয়ে রাখতেই বাইরু অনাস্থা ভোটের উদ্যোগ নেন। কিন্তু উল্টো সেটিই তার পতনের কারণ হলো।
মাত্র ৯ মাসের মাথায় পদত্যাগ করছেন বাইরু। তার আগের প্রধানমন্ত্রী মিশেল বার্নিয়েরও গত ডিসেম্বরে অনাস্থা ভোটে হেরে বিদায় নিয়েছিলেন।
এলিসি প্যালেস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শিগগিরই নতুন প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দেবেন। তবে বিকল্প খুব সীমিত। সেনামন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু ও বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন আলোচনায় থাকলেও এই দায়িত্ব অনেকটা ‘বিষের পাত্র’ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদেরও আতঙ্কিত করেছে। ফরাসি সরকারি বন্ডের সুদের হার এখন স্পেন, পর্তুগাল ও গ্রিসের চেয়েও বেশি। শুক্রবার ফ্রান্সের ঋণমান কমে গেলে অর্থনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হবে।
বাইরু ভোটের আগে বলেন, ‘আপনারা সরকার নামাতে পারেন, কিন্তু বাস্তবতা মুছে ফেলতে পারবেন না। ব্যয় বাড়তেই থাকবে, ঋণের বোঝাও আরও ভারী হবে।’ তিনি স্বীকার করেন, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সামাজিক চুক্তি ভেঙে গেছে।
সংকটের শেকড় প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর গত বছরের হঠাৎ নির্বাচনের সিদ্ধান্তে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে চরম ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালির উত্থানে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি নির্বাচন ডাকেন। এতে সংসদ ভাঙা-ভাঙা হয়ে পড়ে—ডান ও বাম দল শক্তি বাড়ায়, ম্যাক্রোঁর দল আসন হারায়।
এখন সমস্যা হলো, টানা তিনজন মধ্যপন্থী প্রধানমন্ত্রী ব্যর্থ হওয়ার পর বিরোধীরা নতুন কাউকে সুযোগ দিতে রাজি নয়। ডানপন্থীকে বামপন্থীরা, আর বামপন্থীকে ডানপন্থীরা আটকে দেবে। ফলে স্থিতিশীল সরকার গঠনের পথ প্রায় বন্ধ।
আগামী বাজেট নিয়েও তীব্র সংঘাতের আশঙ্কা। সমাজতান্ত্রিকরা ধনীদের ওপর কর বাড়াতে ও ব্যবসায়িক করছাড় বাতিল করতে চায়, যা রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
নতুন নির্বাচনের ডাক পড়লে সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, চরম ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি শীর্ষে থাকবে, বামপন্থীরা দ্বিতীয় এবং ম্যাক্রোঁর দল অনেক পিছিয়ে থাকবে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এখন না হলেও ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ক্ষমতায় যেতে পারে চরম ডানপন্থীরা।
জনআস্থা ভেঙে পড়েছে, রাস্তায় বিক্ষোভের ডাকও এসেছে। বামপন্থীরা বুধবার দেশজুড়ে ‘সবকিছু বন্ধ করো’ স্লোগানে আন্দোলন করবে, ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রেড ইউনিয়নও মাঠে নামবে।
এমন অস্থির সময়ে ফ্রান্সের সংকট রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সুযোগ হয়ে উঠেছে, যারা ইউরোপের দুর্বলতা নিয়ে ব্যঙ্গ করতে ভালোবাসেন।
এমএস/