দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলে আবারও শক্তিশালী আফটারশক আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৯ মিনিটে ৫ দশমিক ২ মাত্রার এই কম্পন অনুভূত হয় জালালাবাদ শহর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। তবে নতুন করে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিবিসি জানিয়েছে, এর মাত্র দুই দিন আগে, রবিবার (৩১ আগস্ট) ছয় মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশটিতে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ৩ হাজার আহত হয়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা ধসে পড়ায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়েছে। অনেক গ্রামে ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও আটকে আছেন অনেকে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কুনার প্রদেশে হেলিকপ্টার দিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। তবে কিছু এলাকায় ভৌগোলিক বাধার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানান, মাজার উপত্যকার একটি গ্রামে তিনবার চেষ্টা করেও হেলিকপ্টার নামানো যায়নি।
জাতিসংঘ জরুরি তহবিল থেকে সহায়তা দিয়েছে। যুক্তরাজ্য ১ মিলিয়ন পাউন্ড সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভারত পাঠিয়েছে এক হাজার তাবু এবং কাবুল থেকে কুনার প্রদেশে খাদ্যসামগ্রী পরিবহনে সহযোগিতা করছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, দুর্গম এলাকায় হাজারো মানুষ এখনো খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয়ের তীব্র সংকটে আছে। অনেক শিশু নদীর পানি খেতে বাধ্য হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা দিতে মেডিকেল টিম পাঠিয়েছে সংস্থাটি।
ডাক্তারস উইদআউট বর্ডার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের আগে থেকেই নানগরহার ও লাঘমানের হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ ছিল স্বাভাবিকের বাইরে। এখন করিডরে বসে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে আহতদের।
ভূমিকম্পের এই বিপর্যয় আফগানিস্তানে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ সময়ের মধ্যে। দেশটি এখন মারাত্মক খরা ও খাদ্যসংকটে ভুগছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে পড়েছে।
এমএস/