দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় রক্তে ভাসছে গাজা। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) একদিনেই কমপক্ষে ১০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩২ জন নিহত হয়েছেন ত্রাণ সংগ্রহের সময়। নিহতদের মধ্যে শিশু, নারী ও সাংবাদিকও রয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইসরায়েল গাজা সিটি দখলের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। এ জন্য টানা হামলা চালানো হচ্ছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, বিশেষ করে আল-সাবরা মহল্লায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সিটির বাসিন্দারা এখন খাঁচার ভেতর বন্দির মতো, যেখানে যেতেই তাদের ওপর বোমা পড়ছে।
খাদ্য সংকটও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় অনাহারে মারা গেছে আরও ১৩ জন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ক্ষুধায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬১-জনে।
খান ইউনিসের আল-মাওয়াসি এলাকায় পানির জন্য লাইনে দাঁড়ানো অবস্থায় ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সাতজন শিশু। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, রক্তে ভেজা পানির জার আর শিশুদের নিথর দেহ পড়ে আছে সেই জায়গায়, যেটিকে ইসরায়েল আগে নিরাপদ অঞ্চল বলেছিল।
গাজা সিটিতে আল-আফ পরিবারের বাড়িতে এক হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর বলছে, এসব হামলা স্পষ্টতই যুদ্ধাপরাধ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে এ গণহত্যা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
সর্বশেষ হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই সাংবাদিক— আল-মানারার রাসমি সালেম ও ইমান আল-জামলি। এ নিয়ে ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে এখন পর্যন্ত নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৭০-এর বেশি। গণমাধ্যম পর্যবেক্ষক সংগঠনগুলো বলছে, ইতিহাসে এটি সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী যুদ্ধ।
মঙ্গলবার গাজা সিটিতে স্থল অভিযান জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। কয়েক হাজার রিজার্ভ সেনাকে ডাকা হয়েছে অভিযানে অংশ নিতে। যদিও ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অন্তত ৩৬৫ সেনা দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, হামাসকে পরাজিত করাই এখন লক্ষ্য। তবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে এখনো ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া আসেনি বলে জানিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
এদিকে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা দাবি করেছে, তারা চারটি ড্রোন পাঠিয়েছে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়, যার মধ্যে ছিল তেলআবিবের সেনা সদর দপ্তর, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আশদোদ বন্দর। এছাড়া লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী একটি পণ্যবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
এমএস/