দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রায় সাত বছর পর চীন সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার (৩০ আগস্ট) তিনি তিয়ানজিনে পৌঁছান সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলন শুরু হবে রোববার থেকে। মোদিকে স্বাগত জানায় প্রবাসী ভারতীয়রা।
এনডিটিভি জানিয়েছে, রোববার (৩১ আগস্ট) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন মোদি। বৈঠকে মূল আলোচ্য হবে ভারত-চীন সম্পর্কের গতি ধরে রাখা, যা গালওয়ান সংঘর্ষ ও লাদাখ সীমান্তে দীর্ঘ উত্তেজনার পর আবারো ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছেন; চীনেরও চলছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য দ্বন্দ্ব। এই প্রেক্ষাপটে বৈঠকটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
জাপান সফর শেষে তিয়ানজিনে পৌঁছে মোদি বলেন, ভারত-চীন সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, বরং আঞ্চলিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যোগ করেন, পৃথিবীর দুটি বৃহৎ দেশের স্থিতিশীল ও পূর্বানুমেয় সম্পর্ক এশিয়া ও বিশ্বকে বহুমুখী শক্তির ভারসাম্যের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র দিল্লি সফরের পর ভারত-চীন সিদ্ধান্ত নেয় সীমান্ত বিরোধ সমাধানে একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হবে। এছাড়া দ্রুতই দুই দেশের সরাসরি ফ্লাইট চালু ও ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়ে একমত হয় তারা।
এসসিও সম্মেলনের ফাঁকে মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সেখানে ট্রাম্পের শুল্ক নীতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক বড় ধাক্কা খেয়েছে। এ অবস্থায় দিল্লি এখন বাণিজ্য বৈচিত্র্য আনতে মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার দিকে নজর দেবে। একইসঙ্গে তারা কারও সঙ্গে সরাসরি জোটে না গিয়ে জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে চাইছে।