দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় জরিমানা হিসেবে ভারতের ওপর আরও অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (৬ আগস্ট) ভারতের ওপর অতিরিক্ত এই শুল্ক আরোপের এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এ নিয়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের মোট শুল্কের পরিমাণ বেড়ে ৫০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল কেনার জরিমানা হিসেবে ট্রাম্পের আরোপিত নতুন এই শুল্ক আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে কার্যকর হবে। ভারতীয় পণ্যের ওপর বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে অতিরিক্ত এই শুল্ক যোগ হবে।
এর আগে সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে।’
যদিও ঠিক কত শতাংশ শুল্ক বাড়ানো হবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে গত সপ্তাহেই ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর ন্যূনতম ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ভারত এখনও রাশিয়ার কাছ থেকেই অধিকাংশ সামরিক সরঞ্জাম কিনছে এবং চীন ও ভারত সম্মিলিতভাবে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় জ্বালানি ক্রেতা। এগুলো মোটেও ভালো বিষয় নয়!’
তবে ভারতের অবস্থান ভিন্ন। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে দেশটি বলছে, তাদের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা। ভারত সরকার একে ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ এখনো রাশিয়ার কাছ থেকে সার ও রাসায়নিক পণ্য কিনছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত এখন তৃতীয় বৃহত্তম তেল ভোক্তা। জনসংখ্যা ১৪০ কোটিরও বেশি। দেশটির ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি ও নাগরিকদের জীবনমানের উন্নতির ফলে গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ব্যবহার বেড়েছে, যার ফলে জ্বালানির চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।
ট্রেড ইন্টেলিজেন্স ফার্ম কেপলার-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মুইউ শু জানান, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির ৩৬ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে। ফলে মস্কো, দেশটির শীর্ষ জ্বালানি উৎসে পরিণত হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করলেও, চীন, ভারত ও তুরস্ক রাশিয়ার তেল কেনা অব্যাহত রেখেছে।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাশিয়া ও মধ্য এশিয়া অধ্যয়ন কেন্দ্রের সহযোগী অধ্যাপক অমিতাভ সিং বলেন, ‘রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতে যে ছাড়ে তেল কেনা হচ্ছে, তা অন্যান্য তেল সরবরাহকারীরা কখনোই দিত না। এটি একেবারেই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত।’
এফএইচ/