দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ ও ইসলামোফবিয়া (ইসলাম বিরোধী বিদ্বেষ) রুখতে বিশেষ দূত নিয়োগের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে নতুন একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গত শুক্রবার (১৫ মার্চ) সাধারণ পরিষদের ৭৬ তম অধিবেশনে ওআইসির পক্ষে প্রস্তাবটি উত্থাপিত করে পাকিস্তান।
প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে বাংলাদেশ, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইরান, কাতার, কুয়েত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ১১৫টি দেশ। অন্যদিকে ভোটদানে বিরত ছিল ভারত, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ৪৪টি দেশ।
মূলত ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলার পঞ্চম বার্ষিকীতে জাতিসংঘ–ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবসে ইসলামবিদ্বেষ বিরোধী এই প্রস্তাবটি পাস করা হয়। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ জুমার নামাজের সময় এক বন্দুকধারী ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে ৫১ জনকে হত্যা করেন।
জাতিসংঘের গণমাধ্যম শাখা থেকে প্রচারিত খবরে বলা হয়, ওআইসির পক্ষে পাকিস্তানের আনা প্রস্তাবটি পাস হওয়ার আগে কিছু বক্তব্য সংশোধনের পক্ষে মত দিয়েছিল ইউরোপসহ পাশ্চাত্যের বেশ কয়েকটি দেশ।
কিন্তু প্রস্তাবে সংশোধনীর মতামত শেষ পর্যন্ত দু’দফা ভোটের বৈতরণি পার হতে পারেনি। সংশোধনীতে জাতিসংঘের বিশেষ দূতের পরিবর্তে ফোকাল পয়েন্ট ও পবিত্র কোরআন অবমাননার বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার মতো প্রসঙ্গের উল্লেখ ছিল।
প্রস্তাব পাসের পর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, বিভাজন সৃষ্টিকারী ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়কে কলঙ্কিত করছে। অসহিষ্ণুতা ও বিদ্বেষমূলক অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলেও জানান তিনি।
জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, অনলাইনে হিংসাত্মক বক্তব্য বাস্তব জীবনের সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবশ্যই ঘৃণামুক্ত হতে হবে। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদেরকে এধরনের হয়রানি হাত থেকে সুরক্ষা দিতে হবে বলেও জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।
এদিকে, ভারতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তান উত্থাপিত ও চীন–সমর্থিত প্রস্তাবে ভোট দানে বিরত থেকেছে ভারত।
এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধি রুচিরা কাম্বোজ বলেন, একটি ধর্মের বিরুদ্ধে বৈষম্যকে আলাদা করে স্বীকৃতির পরিবর্তে হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈনসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যেরও স্বীকৃতি দেওয়াটা জরুরি। আর এ কারণেই প্রস্তাবটির পক্ষে সমর্থন না দিয়ে ভোটদানে বিরত থেকেছে ভারত।
ডিপি/