দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরও মিলল না সরকার গঠনের ম্যাজিক ফিগার! কোনো পক্ষই নিশ্চিত করতে পারেনি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা। ফলে দেশটির রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা, শুরু হয়েছে সরকার গঠনের কঠিন সমীকরণ। ১২০ আসনের নেসেটে প্রয়োজন ৬১টি আসন। অথচ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট পেয়েছে ৫৩টি, আর বিরোধী জোটের ঝুলিতে ৪৮টি আসন। সবচেয়ে বড় চমক আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ১৯ আসন। এখন সরকার গঠনের ভাগ্য নির্ধারণে তাদের ভূমিকাই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত কার হাতে উঠবে ক্ষমতার চাবি—নেতানিয়াহু, নাকি বিরোধী জোট? সেই প্রশ্নেই উত্তপ্ত ইসরাইলের রাজনীতি।
গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নেতানিয়াহু আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন সরকার গঠনের পথ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও দর-কষাকষিতে কয়েক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল
ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, তিনটি রাজনৈতিক শিবিরের আসনসংখ্যা হলো-
নেতানিয়াহু সমর্থিত জোট: ৫৩ আসন
- লিকুদ: ২৭
- ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম: ৭
- ওতজমা ইয়েহুদিত: ৭
- শাস: ৬
- রিলিজিয়াস জায়নিজম: ৬
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: ৪৮ আসন
- ইয়াশার: ২১
- বি’ইয়াচাদ: ১২
- দ্য ডেমোক্র্যাটস: ৮
- ইসরায়েল বেইতেনু: ৭
আরব নেতৃত্বাধীন দল: ১৯ আসন
- জয়েন্ট লিস্ট: ১১
- রা’আম: ৮
ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, কোনো জোটই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পায়নি। ফলে নতুন সরকার গঠনে দলগুলোর মধ্যে জোট পরিবর্তন, সমঝোতা কিংবা নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রয়োজন হতে পারে। আরব দলগুলোর সমর্থন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
নির্বাচনের পর কী হবে?
ভোট গণনা ও ফল ঘোষণার পর নির্বাচনের ফল আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করে আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে জমা দেওয়ার কথা। আগামী ১০ নভেম্বর নতুন নেসেটের সদস্যদের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শপথ গ্রহণের পর ১১ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট একজন পার্লামেন্ট সদস্যকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ জোট গঠনে সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনাময় বলে বিবেচিত হবেন, তাকেই বেছে নেবেন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন পাওয়ার পর সরকার গঠনের জন্য ওই সংসদ সদস্য ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো হতে পারে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন সম্ভব না হয়, তাহলে দেশটিতে নতুন নির্বাচন আয়োজনের পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।
নির্বাচনের ফল নিয়ে যা বললেন আইজেনকট
নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট দাবি করেছেন, ইসরাইলের অধিকাংশ ভোটারই নেতানিয়াহুর সরকারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যেভাবেই হিসাব করা হোক না কেন, ৫ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে ইসরাইলের সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিক ৭ অক্টোবরের সরকার এবং সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এড়িয়ে যাওয়ার নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। তারা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। কেউ যেন কাউকে বিভ্রান্ত না করেন। ইসরাইল রাষ্ট্রে পার্লামেন্টই সরকারকে আস্থার ভোট দেয়, সরকার পার্লামেন্টকে নয়।’ তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
এমজে