দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইতালিতে সহিংস বিক্ষোভে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে আটক এক বিশ্ববিদ্যালয় গবেষককে মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
৩০ বছর বয়সী ইউসুফ সিহের ইতালীয় স্বাধীন সাংবাদিক। তার পরিবারের শিকড় মরক্কোতে। তিনি ভূরাজনীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। গত ২৪ অক্টোবর মিলানের সরকারি কৌঁসুলিরা তাকে আটক করেন। তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনে উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগে সন্ত্রাসী উদ্দেশ্যের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছিল।
তবে তদন্তকারীরা তাকে বিপজ্জনক উগ্রপন্থী হিসেবে তুলে ধরলেও মিলানের বিচারক তিজিয়ানা লান্দোনি তদন্তের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার পর্যবেক্ষণ, সিহেরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি নেই।
আদালতের আদেশে বিচারক লেখেন, ‘সিহেরের বিরুদ্ধে যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো তিনি করেছেন বলে বিশ্বাস করার মতো গুরুতর কোনো ভিত্তি নেই। তার পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও নেই।’
সিহের শুরু থেকেই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। সরকারি কৌঁসুলিরা তাৎক্ষণিকভাবে আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে প্রধানমন্ত্রী মেলোনি দ্রুত এর প্রতিবাদ জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে মেলোনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি পুলিশ ও তদন্তকারীদের কাজের প্রতি অসহনীয় অবমাননা।’
তিনি আরও বলেন, ‘কিছু বিচারিক মহলের এমন সিদ্ধান্তের মুখে একটি স্বাভাবিক রাষ্ট্র কীভাবে সাধারণ ও সৎ মানুষদের রক্ষা করতে পারে, তা আমি সত্যিই বুঝতে পারছি না।’
টেলিগ্রাম গ্রুপ ঘিরে অভিযোগ
ইতালীয় পুলিশ সিহেরকে ‘অক্টোবর ১৭ আন্দোলন’ নামের একটি টেলিগ্রাম গোষ্ঠীর অ্যাড্মিনিস্ট্রেটর্ হিসেবে শনাক্ত করেছিল। মিলানে সহিংস বিক্ষোভের পর গ্রুপটি তৈরি করা হয়।
আটকের আদেশে বলা হয়েছিল, সিহের এমন কিছু বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছিলেন, যেগুলোকে তদন্তকারীরা ‘উসকানিমূলক’ বলে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি ২৪ অক্টোবর বিক্ষোভকারীদের সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জনশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে বার্তা দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
তবে বিচারক লান্দোনি বলেন, ওই মন্তব্যগুলো সিহের নিজে করেননি, বরং গ্রুপের অন্য সদস্যরা প্রকাশ করেছিলেন। তার ভাষ্য, ‘অন্য সদস্যদের দেওয়া বার্তায় যে সহিংস কর্মকাণ্ডের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছিল, সিহেরকে সেগুলোতে উৎসাহ দিতে বা কোনোভাবে সমর্থন জানাতে দেখা যায়নি।’
নতুন নিরাপত্তা আইনে প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ মামলা
মেলোনি সরকারের চলতি মাসে জারি করা নিরাপত্তা অধ্যাদেশের আওতায় নতুন করে সংজ্ঞায়িত একটি অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল সিহেরের বিরুদ্ধে। জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়।
নতুন আইনে, জনসমাবেশে অংশ নেওয়ার সময় জননিরাপত্তা বিপন্ন করে বা সম্পদের ক্ষতি করে এমন গোষ্ঠীর সংগঠকদের চার থেকে ১২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
সিহেরের গ্রেপ্তার নিয়ে ইতালির আইনজীবী মহল ও আইন পর্যবেক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মামলাটি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের ব্যাপক প্রচারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, ইতালির কিছু সংবাদপত্র তাকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করেছে এবং তার ব্যক্তিগত জীবন ও পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে।
/অ