দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফ্রান্সে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভের জেরে একগুচ্ছ পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সোমবার তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের বিভিন্ন দাবির জবাবে সরকার এসব পদক্ষেপের ঘোষণা দেবে। তবে সামনে আরও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও স্বীকার করেছেন তিনি।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু শিক্ষার্থী ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন করবেন। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো শিক্ষা খাতে আরও বরাদ্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বর্তমান ভর্তি ব্যবস্থায় বৈষম্য আরও জোরদার হচ্ছে।
বিক্ষোভে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে মার্সেই শহরে গিয়ে সাংবাদিকদের ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘এই সামাজিক আন্দোলনের মূলে থাকা ন্যায্য দাবিগুলোর জবাব দিতে আমি সরকারকে নির্দেশ দিয়েছি।’
এর আগে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজও আগামী সপ্তাহান্তে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। ম্যাক্রোঁ তাঁর বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেন।
নয় দিন আগে ফ্রান্সের কয়েক ডজন শহরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পরও বিক্ষোভ থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, রাজপথের নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবারের বিক্ষোভে ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন ওই বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ থেকে শুরু হলেও আন্দোলনটি এখন অনেক বিস্তৃত হয়েছে। এতে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক ইউনিয়ন এবং ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের কর্মীরা। জ্বালানির উচ্চমূল্যসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে উজ্জ্বল হলুদ জ্যাকেট পরে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্য পরিচিত এই আন্দোলন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ বলেন, বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করায় চলতি মাসের শুরুর দিকে ঘটে যাওয়া সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। তবে আগামী ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভে নতুন করে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে কি না—বিএফএম টেলিভিশনের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হ্যালোইনের সন্ধ্যায় ঐতিহ্যগতভাবেই কিছুটা উত্তেজনা থাকে। এবারও পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে বলে আমরা আশঙ্কা করছি।’
নুনেজ জানান, শনিবারের বিক্ষোভে দেশজুড়ে ১ হাজার ৪৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েকটি শহরে নতুন একটি প্রবণতা দেখা গেছে—সংগঠিত উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো উগ্র বামপন্থি কর্মীদের মুখোমুখি হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পরিচয়ভিত্তিক ও জাতীয়তাবাদী বিভিন্ন আন্দোলনের পক্ষ থেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষার অজুহাতে লোকজনকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়েছিল। নিস ও মন্টপেলিয়েরের মতো কয়েকটি শহরে এসব গোষ্ঠী সংগঠিতভাবে উপস্থিত হয়ে মূলত উগ্র বামপন্থিদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে।
সরকারের পক্ষ থেকে শনিবারের পুলিশি অভিযানকে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। যদিও প্যারিস, মার্সেই ও লিয়নের মতো ফ্রান্সের তিন বৃহত্তম শহরে বিক্ষিপ্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
সরকারের মুখপাত্র মউদ ব্রেজোঁ আরটিএল রেডিওকে বলেন, ‘এ সপ্তাহান্তে রাষ্ট্র জয়ী হয়েছে। রাষ্ট্র তার শক্তি দেখিয়েছে।’
তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীরা যেসব ন্যায্য দাবি তুলেছেন, সেগুলো শুনতে হবে। তবে অর্থবহ আলোচনার জন্য আগে পরিস্থিতি শান্ত করা জরুরি।
ম্যাক্রোঁর প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদ আগামী এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা। একই সময়ে দেশের সরকারি অর্থব্যবস্থা তীব্র চাপের মুখে রয়েছে। ফলে আগের বিক্ষোভগুলো প্রশমনে কাজে লাগা বড় অঙ্কের আর্থিক ছাড় দেওয়ার সুযোগ এবার তাঁর সরকারের সীমিত।
ব্যবসায়ী নেতারা জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত থাকলেও বিক্ষোভের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি অব্যাহত রয়েছে।
ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নেটওয়ার্ক সিসিআই ফ্রান্সের প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজো বলেন, ১৭ অক্টোবরের সহিংসতার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেক দোকান বন্ধ রাখা হয়েছিল। এতে বিক্রি প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে।
রেডিও ক্লাসিককে তিনি বলেন, ‘দোকানিরা ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে পড়েছেন। আমরা স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যকে ধ্বংস করে দিচ্ছি।’
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/