দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তাইওয়ানে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে চীন অনলাইনে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দ্বীপটির শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা। সংস্থাটির দাবি, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে তাইওয়ানকে লক্ষ্য করে ছড়ানো বিতর্কিত ও মিথ্যা অনলাইন তথ্যের সংখ্যা ২৫ লাখ ছাড়িয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৮ শতাংশ বেশি।
চলতি সপ্তাহে আইনপ্রণেতাদের কাছে জমা দেওয়া এক প্রতিবেদনে তাইওয়ানের ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্যুরো জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে এ ধরনের তথ্যের সংখ্যা ২৫ লাখের বেশি। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৯০ হাজারের বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীন থেকে ছড়ানো এসব তথ্যের মূল বিষয় ছিল জ্বালানি, খাদ্যনিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা নীতি এবং নির্দিষ্ট প্রার্থীদের প্রচারমাধ্যম ও ভাবমূর্তি। আগামী নভেম্বরে তাইওয়ানে মেয়র ও কাউন্টি ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনের আগে ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করতেই এ তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও চীনের তাইওয়ানবিষয়ক দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বেইজিং তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। তবে তাইওয়ান চীনের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এর আগে তাইওয়ানের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ কিংবা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগও অস্বীকার করেছে চীন।
তাইওয়ানের অভিযোগ, দ্বীপটির ওপর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠায় চাপ বাড়াতে চীন নিয়মিত সামরিক মহড়া, সাইবার হামলা এবং অন্যান্য ‘গ্রে-জোন’ কৌশল ব্যবহার করছে। সামরিক সংঘাতের সরাসরি পর্যায়ে না গিয়েও প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার এসব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাও জোরদার করা হয়েছে।
ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়, চীন প্রায়ই রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট বয়ান তৈরি করে। পরে অনলাইন ট্রল বাহিনী ও জনসংযোগ প্রতিষ্ঠানের সাহায্যে সেসব বক্তব্য ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এর উদ্দেশ্য তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে বিভেদ ও মতবিরোধ বাড়ানো।
এ ধরনের প্রচারণায় কনটেন্ট ফার্ম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও, ভুয়া অ্যাকাউন্ট এবং সমন্বিতভাবে অনলাইনে মন্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার কৌশল ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, “ভোটারদের সমর্থন ও নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে চীন তথ্যকে নিয়ন্ত্রণ ও বিকৃত করতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে।”
গোয়েন্দা সংস্থাটির দাবি, তাইওয়ানের সমসাময়িক পরিস্থিতি, প্রার্থীদের নীতি এবং জনমত জরিপসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহেও এআই ব্যবহার করছে চীন। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ভোটারদের পছন্দ ও নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে প্রযুক্তিনির্ভর প্রচারণা পরিচালনা করা হচ্ছে।
ফেসবুক, থ্রেডস, ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন ফোরামে এসব বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তাইপেভিত্তিক গবেষণা সংস্থা আইওআরজি-এর সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তাইওয়ানের ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টির সমালোচকদের বক্তব্য ক্রমবর্ধমানভাবে প্রচার করছে। এদের মধ্যে বিরোধী দল কুওমিনতাংয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালী অনলাইন ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিকেরাও রয়েছেন।
সাইবার হামলাও বেড়েছে
তথ্যযুদ্ধের পাশাপাশি তাইওয়ানের সরকারি সংস্থাগুলোকে লক্ষ্য করে সাইবার হামলার সংখ্যাও বেড়েছে বলে জানিয়েছে ন্যাশনাল সিকিউরিটি ব্যুরো।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে তাইওয়ানের সরকারি সংস্থাগুলোর ওপর চীনা সাইবার হামলার গড় সংখ্যা ছিল প্রতিদিন ২৫ লাখ ৮০ হাজার। জুন থেকে শনাক্ত হুমকির সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। জুলাইয়ে তা বেড়ে ১৮ কোটি ৫৬ লাখে পৌঁছায়। আগস্টেও শনাক্ত হুমকির সংখ্যা ছিল ১০ কোটি ৬৪ লাখ।
প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিতব্য তাইওয়ানের স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তথ্য সংগ্রহ এবং হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি হিসেবেও এসব সাইবার তৎপরতা চালানো হয়ে থাকতে পারে। এ কারণে নির্বাচনে হস্তক্ষেপের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তাইওয়ানে নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে এ পরিস্থিতি দ্বীপটির নির্বাচনী নিরাপত্তা, তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভোটারদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/