দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতের দিল্লির তিহার কারাগার থেকে মুক্তির নির্দেশ পেয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
বুধবার দিল্লির বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ আরও তিন দিন বাড়ানোর আবেদন নাকচ করে তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন।
বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঋতু রাজ বলেন, শান্তি ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে দুই নেতা লিখিত অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ায় তাদের আরও বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার প্রয়োজন নেই।
এর আগে তিরঙ্গা মিছিলের সময় দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রবেশ এবং আগে দেওয়া শান্তি রক্ষার মুচলেকা ভঙ্গের অভিযোগে ১৪ অক্টোবর সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে তারা মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে আসছিলেন।
২১ অক্টোবরের আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুই নেতা প্রত্যেকে ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত মুচলেকা ও জামিনদার জমা দিয়েছেন। তাদের মুক্তির জন্য তিহার কারাগারে পরোয়ানা পাঠানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ‘তাই এ পর্যায়ে তাদের আরও বিচার বিভাগীয় হেফাজতে রাখার প্রয়োজনীয়তা দেখা যাচ্ছে না, বিশেষ করে আদালতে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেওয়ার পর।’
শান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার
সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা শান্তি ভঙ্গ না করার অঙ্গীকার করেছেন। পাশাপাশি বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতসহ বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার কথাও জানিয়েছেন তারা।
আইন অনুযায়ী যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে ব্যবহারের মর্যাদা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সেখানে বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলেও অঙ্গীকার করেছেন দুই নেতা। তারা জানিয়েছেন, কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি হলে তা সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই থাকবে।
বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৩৫(৩) ধারায় শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা মোকাবিলায় মুচলেকা ও অঙ্গীকারনামা যথেষ্ট বলে বিবেচিত হতে পারে।
আদালত দুই নেতাকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, মুচলেকা ও অঙ্গীকারের শর্ত মেনে চলা এবং প্রতিটি শুনানিতে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৩ অক্টোবর বিকেল ৩টায় তাদের এবং জামিনদারদের আদালতে হাজির হতে বলা হয়েছে। ওই দিন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জামিনদারদের বিষয়ে যাচাই প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
কেন আরও হেফাজত চেয়েছিল পুলিশ
শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কায় দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে পাঁচ দিনের হেফাজতে পাঠানোর পর ১৯ অক্টোবর আরও দুই দিনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।
বুধবার পুলিশ আবারও তিন দিনের হেফাজত বাড়ানোর আবেদন করে। পুলিশের যুক্তি ছিল, ভবিষ্যতে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা এখনো রয়েছে। আদালতে দুই নেতার বক্তব্যের সঙ্গে তাদের প্রকাশ্য বক্তব্য ও লিখিত জবাবের অসংগতি রয়েছে বলেও অভিযোগ করে পুলিশ।
এ ছাড়া দলের অন্য সদস্যদের আচরণ এবং দুই নেতাকে তিহার কারাগারে নেওয়ার সময় দেওয়া একটি সংবাদমাধ্যমের বিবৃতি তুলে ধরে পুলিশ। তাদের অভিযোগ, ওই বিবৃতি বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন করেছে।
জবাবে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার আইনজীবীরা নিঃশর্তভাবে মৌখিক ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণের পুনরাবৃত্তি হবে না বলে আদালতকে আশ্বস্ত করেন।
/অ