দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের নতুন করে হামলাকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি শুধু ইউক্রেনের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল আমদানি চুক্তি এবং ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
শুক্রবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) এক সম্মেলনে যোগ দিয়ে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল চুক্তি তিনি মেনে নিতে পারেন না। কারণ, এর পর গ্যাস নিয়েও চুক্তি হতে পারে। তিনি বলেন, আমি যদি এর বিরুদ্ধে না দাঁড়াই, তাহলে আর কে দাঁড়াবে?
সম্প্রতি মস্কোর সঙ্গে বিতর্কিত একটি চুক্তি করেছে ওয়াশিংটন, যার আওতায় ৩ লাখ টন ডিজেল যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে সরবরাহের কথা রয়েছে। জেলেনস্কির অভিযোগ, এই চুক্তি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধের তহবিলে অর্থ জোগাবে। শুক্রবারও তিনি বলেন, চুক্তিটি পুতিনের পকেটে আরও অর্থ তুলে দেবে।
বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজম্যাক্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জেলেনস্কির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, পুতিনের সঙ্গে আলোচনার চেয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো বেশি কঠিন। ট্রাম্পের ভাষ্য, জেলেনস্কি সমঝোতার কথা বললেও বাস্তবে তিনি তা চান না।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, এসব হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে। তাঁর মতে, হামলার জন্য আরও অনেক লক্ষ্যবস্তু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া ডিজেল চুক্তি বাস্তবায়নে এসব হামলা বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে ট্রাম্পের অসন্তোষের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধের বিষয়ে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে কিয়েভ জানিয়েছিল, মস্কো হামলা বন্ধ করলে তারাও হামলা বন্ধ করবে। রাশিয়া ওই সমঝোতায় সম্মত হওয়ার কথা অস্বীকার করে হামলা চালিয়ে যাওয়ায় তিন দিন পর ইউক্রেনও পুনরায় রুশ তেল শোধনাগারে হামলা শুরু করে।
ব্রাসেলস সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। লন্ডন সফরের পর সেখানে পৌঁছে জেলেনস্কি মিত্রদের মাঝে ফিরতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি ‘প্রকৃত নেতাদের’ সঙ্গে থাকার কথা বলেন, যা ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্মেলনে ইউক্রেনের অর্থায়ন এবং আসন্ন শীত মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। জেলেনস্কি ইউরোপীয় কাউন্সিলকে জানান, আগামী বছর যুদ্ধ পরিচালনায় ইউক্রেনের ১৫৫ বিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে প্রতিরক্ষা ও অস্ত্রের জন্য অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছ থেকে প্রয়োজন বলে জানান তিনি।
জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন বর্তমানে যত ড্রোন তৈরি করে, তার তিন গুণ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। একই সঙ্গে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে শহরগুলোকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিও বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে। তাঁর মতে, ইউরোপের কাছে আসন্ন শীতের জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র থাকলেও সেগুলো ইউক্রেনকে ধাপে ধাপে দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন প্রসঙ্গে জেলেনস্কি বলেন, আমেরিকায় অনেক ভালো মনের মানুষ রয়েছেন, যারা ইউরোপকে বিভক্ত বা অপমান করার পরিবর্তে মিত্র হিসেবে দেখতে চান।
এরই মধ্যে ইউক্রেনের সামরিক সক্ষমতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন মালিকানাধীন স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে গতি সীমিত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। মঙ্গলবার রাতে এই সীমাবদ্ধতার সময় ইউক্রেনে রাশিয়ার কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলা হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শুক্রবার জেলেনস্কি এ ঘটনাকে বিপজ্জনক ও অপ্রত্যাশিত বলে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, স্টারলিংকের গতি তখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন সতর্ক করেছিল, ইউক্রেন রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলা বন্ধ না করলে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সীমিত করা হতে পারে। এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে খারকিভে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর মস্কোর আকাশসীমা কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয় এবং রাশিয়ার ২৬টি অঞ্চলে ৬৪৪টি ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/