দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চীন থেকে সরবরাহ করা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে আরও দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ব্রিটিশ অস্ত্র পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চের একটি মূল্যায়নের বরাতে বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সমর্থনপুষ্ট হুতিরা চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে ইরানের ‘খাইবার শেকান’ নামের নির্ভুল নিশানাভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্রের আরও দূরপাল্লার সংস্করণ তৈরির চেষ্টা করছে। পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা হতে পারে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কিলোমিটার বা ১ হাজার ২০০ মাইল। এটি তৈরি করা সম্ভব হলে ইয়েমেনের সীমান্ত থেকে দূরবর্তী সৌদি আরবের অঞ্চল, উপসাগরীয় অন্যান্য দেশ এবং ইসরায়েলেও আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে।
এমন সময়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো, যখন সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও জ্বালানি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাও ঘটেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সপ্তাহান্তে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের সর্বশেষ পর্যায় শুরু হয়। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত হন এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৫ সালের পর এটিকে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘খাইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্রের বর্তমান পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কিলোমিটার বা ৯০০ মাইল। এর মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ অংশে আঘাত হানা সম্ভব। ক্ষেপণাস্ত্রটি দ্রুত মোতায়েন ও উৎক্ষেপণ করা যায়। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার সময় উৎক্ষেপণস্থল শনাক্ত করে ধ্বংস করার প্রচেষ্টার মধ্যেও এটি ব্যবহার করা সহজ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
খাইবার শেকান নামটি সৌদি আরবের একটি ইহুদি দুর্গের নাম থেকে এসেছে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে মুসলিম যোদ্ধারা দুর্গটি দখল করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের কাছে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে বেইজিং। চীনের দাবি, ইরানের সমর্থনপুষ্ট এই গোষ্ঠীর ওপর জাতিসংঘের আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তারা মেনে চলে। তবে চীন এবং দেশটির বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরান ও ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীকে অস্ত্র ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে আসছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীন, যার অন্যতম কারণ ইরানের তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে দেশটির ভূমিকা।
অন্যদিকে, অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগের মধ্যেই গত মাসে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানের প্রতি ব্যক্তিগতভাবে আহ্বান জানিয়েছিল চীন। আলোচনা সম্পর্কে অবগত কয়েকটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। প্রকাশ্যে বেইজিং সংযম, সংলাপ ও নিরাপদ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানালেও ব্যক্তিগত আলোচনায় তাদের বার্তা আরও জোরালো ছিল বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তবে ইরানের তিনটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, চীনা কর্মকর্তারা কোনো স্পষ্ট হুমকি দেননি। হুতিদের ওপর প্রভাব খাটাতে ব্যর্থ হলে ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হবে, এমন ইঙ্গিতও তারা দেননি।
যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অর্থনীতি এবং তেলশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তেলশিল্পে বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা রয়েছে এমন অল্প কয়েকটি দেশের মধ্যে চীন অন্যতম।
অঞ্চলটির একজন জ্যেষ্ঠ পশ্চিমা কূটনীতিক বলেন, হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে এমন অল্প কয়েকটি দেশের একটি হলো চীন।
কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও বেইজিংয়ের প্রভাব রয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের চুক্তি হয়েছিল।
তবে এই প্রভাবের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ২০২১ সালে চীন ও ইরানের মধ্যে ২৫ বছর মেয়াদি সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পরও চীনের অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সীমিত অ-তেল বাণিজ্য ও বিনিয়োগ নিয়ে ইরানের অভ্যন্তরে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে চীনের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তুলনা করে এ সমালোচনা করা হয়।
ইরানের জন্য চীন এমন একটি শক্তি, যাকে উপেক্ষা করা কঠিন। তবে ইরানের দুটি সূত্র জানিয়েছে, বেইজিংয়ের স্বার্থ তেহরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়। কৌশলগত, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নানা অগ্রাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রেখেই ইরান সিদ্ধান্ত নেয়।
/অ