দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। শনিবারের এ হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে রিয়াদগামী সব ফ্লাইট বাতিল অথবা অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানায়, হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানানো হয়, আহতদের উদ্ধারে এক ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্স বিমানবন্দরে ছুটে যায়।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালের সূত্র জানিয়েছে, হামলায় কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালের ৪০১ নম্বর গেটে অবস্থান করা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, তিনি সেখানে হামলা ও আহত ব্যক্তিদের দেখেছেন। হামলার পর সবাই ছোটাছুটি করছিলেন।
রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার বিষয়ে তারা অবগত। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন নাগরিকদের বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত পশ্চিমা দেশগুলোর দূতাবাসগুলোও নিজ নিজ নাগরিকদের বিমানবন্দর থেকে দূরে থাকতে সতর্ক করেছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি বিমান সংস্থা রিয়াদগামী ও রিয়াদ থেকে ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিল করেছে। কুয়েত এয়ারওয়েজ ফ্লাইট বাতিলের কারণ হিসেবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে। এদিকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হাসপাতালে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। এক চিকিৎসা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, তাদের গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
এর এক দিন আগে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, হুথিদের চালানো দুটি হামলায় একজন পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর আগে ৬ ও ৭ অক্টোবর সৌদির দুটি বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় আরও তিনজন নিহত হন বলে জানানো হয়েছিল।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর কারণ হিসেবে দেশটিতে সরকারি বাহিনীর প্রতি রিয়াদের সমর্থনের কথা বলছে। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই বিমানবন্দরে সর্বশেষ হামলার ঘটনা ঘটল।
সম্প্রতি হুথিরা দ্রুত সামরিক অভিযানের মাধ্যমে লোহিত সাগরের উপকূলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি এলাকা দখল করে। এর মধ্যে বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে অবস্থিত মোখা বন্দরও রয়েছে। লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের এই প্রণালি বৈশ্বিক নৌবাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী পরে জানিয়েছে, তারা প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে।
২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে উৎখাতের প্রচেষ্টা ঠেকাতে আরব দেশগুলোকে নিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট গঠন করা হয়। দীর্ঘদিনের বিমান হামলা ও স্থলযুদ্ধে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানি এবং ভয়াবহ মানবিক সংকটের পর ২০২২ সালে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে জুলাইয়ে সেই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা ভেঙে পড়তে শুরু করে।
এরপর হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং দেশটির বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও লোহিত সাগরে চলাচলকারী ট্যাংকার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে। সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং সানার বিমানবন্দরে চালানো বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/