দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জাপানের ওকিনাওয়ায় এক স্থানীয় নারীকে হত্যা ও তার মালপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক মার্কিন মেরিন সেনার বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের জন্য এক মাসের কারফিউ ও মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
২০ বছর বয়সী ল্যান্স করপোরাল ডেভিন জ্যাকব ব্যালার্ডের বিরুদ্ধে শনিবার দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রিফেকচারের রাজধানী নাহার একটি হোটেলে ৩৯ বছর বয়সী আন্না ইয়াগিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তার মানিব্যাগ ও ব্যাকপ্যাক নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ব্যালার্ড অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেঞ্জামিন ওয়াটসন বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে মার্কিন সেনাদের প্রতিটি যোগাযোগ আস্থা তৈরি বা নষ্ট করতে পারে। আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা দুই দেশের জোটের শক্তি ও এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে। এ কারণে সেনাদের জন্য কারফিউ ও মদ্যপানে নিষেধাজ্ঞার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ওয়াটসন আরও জানান, ওকিনাওয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব কার্যক্রম ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত থাকবে। এ সময় সেনাদের আচরণবিধি ও শৃঙ্খলা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
শনিবারের হত্যাকাণ্ডকে ‘অত্যন্ত নৃশংস’ বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
পুলিশের বরাতে স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস জানিয়েছে, ব্যালার্ড ইয়াগির গলায় চাপ প্রয়োগ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। শনিবার ভোরে হোটেলকর্মীরা কক্ষের ভেতর ইয়াগিকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। নির্ধারিত সময়ে তিনি হোটেল থেকে বের হননি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সিসিটিভিতে ওই নারীর সঙ্গে ব্যালার্ডকে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। পরে তাকে খুঁজতে প্রায় ২০০ পুলিশ সদস্য অভিযান চালান। এ ঘটনায় নাহা ও টোকিওতে বিক্ষোভও হয়েছে।
টোকিওতে ওকিনাওয়ার গভর্নর জেন্তা কোজার সঙ্গে বৈঠকে তাকাইচি বলেন, এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা চালিয়ে যাবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন বাহিনীর মধ্যে জাপানেই সবচেয়ে বড় বিদেশি সেনা উপস্থিতি রয়েছে। জাপানে অবস্থানরত প্রায় ১৮ হাজার মার্কিন মেরিন সেনার বেশির ভাগই ওকিনাওয়ায় মোতায়েন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ওকিনাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল।
মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি নিয়ে ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ রয়েছে। শব্দদূষণ, উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা ও সেনা সদস্যদের আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ উঠেছে। ১৯৯৫ সালে ১২ বছর বয়সী এক ওকিনাওয়ান কিশোরীকে তিন মার্কিন সেনার ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল।
সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডটি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির জন্যও জটিলতা তৈরি করতে পারে। তিনি ওকিনাওয়ার ব্যস্ত ফুতেনমা বিমানঘাঁটি থেকে কিছু মার্কিন মেরিন সেনাকে আরও দূরের হেনোকো এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত। তবে ওকিনাওয়ার বিরোধীরা প্রিফেকচার থেকেই মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
তাইওয়ানের সবচেয়ে কাছের স্থান থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ওকিনাওয়াকে চীনের সম্ভাব্য সামরিক আগ্রাসন ঠেকাতে টোকিও ও ওয়াশিংটন উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে।
/অ