দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের আটকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তাঁর ছেলে সুলেমান খান। তিনি পাকিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সরকারকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
২৯ বছর বয়সী সুলেমান খান অভিযোগ করেন, রোববার রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে পিটিআইয়ের ঘোষিত বড় প্রতিবাদ মিছিলের আগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের আটক করা হয়েছে তাদের ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে। তিনি পরিবারের সদস্যদের মধ্যরাতে আটকের ঘটনাকে ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করেন।
ইমরান খানের দল পিটিআই রোববার ইসলামাবাদে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা ও ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফিকার আলী বুখারি জানিয়েছেন, কর্মসূচি একদিনে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। পরিস্থিতি অনুযায়ী তা কয়েক দিন পর্যন্ত চলতে পারে বলেও তিনি জানান।
এদিকে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, তারা মিছিলটি ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দিতে চায় না। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কনটেইনার বসিয়ে চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোকে সম্ভাব্য বড় ধরনের জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববার ইমরান খানের বোন আলিমাকে লাহোরের বাসা থেকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। পরে তাঁর আরও দুই বোন উজমা খান ও নরিন নিয়াজিসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্যকেও আটক করা হয়। পিটিআই এসব আটকের নিন্দা জানিয়েছে। দলটির দাবি, তাদের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও হয়রানি চালানো হচ্ছে।
ইমরান খান বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর ছেলে সুলেমান তাঁর বাবার কারাবন্দিত্বকে ‘অবৈধ ও ভয়াবহ’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলকে অবহিত করা এবং বিভিন্ন দেশের রাজনীতিকদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখাই বর্তমানে তাঁদের প্রধান করণীয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইমরানের আরেক ছেলে কাসিম খানও পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি বলেন, পরিবারকে আটক করা বা মানুষকে সহিংসতার ভয় দেখানো হলেও জনগণের প্রতিবাদের আকাঙ্ক্ষাকে দমন করা সম্ভব নয়।
পিটিআই জানিয়েছে, ইমরান খানের মুক্তি এবং দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে সরকার জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে কর্মসূচি ঠেকানোর অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে রোববারের কর্মসূচিকে ঘিরে পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
সূত্র: ইন্ডিপেনডেন্ট