দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর বড় পরিসরে নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি আইনে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি আইনে সই করেন। এর ফলে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ানোর পথ তৈরি হয়েছে।
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের আইনটি প্রয়াত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে করা হয়েছে। রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে তিনি আইনটি প্রণয়নে কাজ করেছিলেন। গ্রাহাম জুলাইয়ে মারা যাওয়ার আগে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এর অনুমোদনের জন্য কাজ করেন।
নতুন আইনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, দেশটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ধনকুবেরদের পাশাপাশি রুশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত কথিত ‘ছায়া বহর’-এর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের সবচেয়ে বড় পাঁচ ক্রেতার ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের দুই শীর্ষ ক্রেতা চীন ও ভারতের ওপর। তবে এই শুল্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হচ্ছে না; এটি আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টকে দেওয়া হয়েছে।
আইনটি রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের জ্বালানি ও অস্ত্র খাতের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাও বাড়িয়েছে।
গত মাসে মার্কিন সিনেটে এবং বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হয়। প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে অনুমোদিত হওয়ার পর শুক্রবার ট্রাম্প এতে সই করেন। দুই দলের সমর্থনেই এটি কংগ্রেসে পাস হয়েছে।
সমর্থকেরা বলছেন, রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থায়ন কমানো এবং মস্কোকে আলোচনায় আনাই আইনের লক্ষ্য। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আইনটিকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের বিস্তৃত ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
ভারত জানিয়েছে, ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এদিকে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রায় এক সপ্তাহ পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
/অ