দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইয়েমেনে হুতি নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর সৌদি আরবকে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সরাসরি সামরিক সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। সপ্তাহান্তে ওমানের মাসকাটে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বৈঠকে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে, ২০২৫ সালে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই বলেও জানিয়েছে তারা। ইয়েমেনে সৌদি আরবের অবরোধের কারণে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজ ও সৌদি তেল বহনকারী জাহাজকে তারা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে বলে হুতিরা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল ধরে হুতিদের অগ্রযাত্রা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানও স্পষ্ট হয়েছে। বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতার জন্য হুতিদের অগ্রযাত্রা হুমকি তৈরি করছে বলে ট্রাম্প নিন্দা জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের সমর্থনে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের সঙ্গে ব্যয়বহুল ও সম্পদনির্ভর যুদ্ধে জড়িয়ে রয়েছে। ইরানই হুতিদের সমর্থন করে। ২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানের নেতাদের সঙ্গেও মার্কিন কর্মকর্তারা বৈঠক করেছেন। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স হুতিদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ না করায় ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে হুতিদের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর জন্য সৌদি আরবের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে দ্রুতগতির অভিযানে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী পশ্চিম ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপরাষ্ট্রদূত নাবিল খোরি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ও হুতিদের মধ্যে ‘এক ধরনের নীরব সমঝোতা’ হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, লোহিত সাগরে মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে না বলে হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে। তবে সৌদি জাহাজ বা সৌদি তেল বহনকারী জাহাজ ঝুঁকিতে থাকবে।
এদিকে হুতিদের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক জনসমর্থন তৈরির চেষ্টায় মঙ্গলবার সৌদি আরব দাবি করে, হুতিরা পবিত্র নগরী মক্কার দিকে একটি ড্রোন পাঠিয়েছিল। সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী সেটি ধ্বংস করেছে বলে জানানো হয়। সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি মক্কার পবিত্র স্থাপনাগুলোর কাছে নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশ করছিল।
সৌদি আরব বলেছে, মক্কায় যেকোনো হামলা তাদের জন্য ‘লাল রেখা’। জাতিসংঘ-স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এবং ৫৭ দেশের ইসলামি সহযোগিতা সংস্থাও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও মক্কায় কথিত হামলার নিন্দা করেন।
তবে হুতি নেতৃত্ব সৌদি আরবের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের দাবি, মক্কা বা মদিনার পবিত্র স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
অন্যদিকে হুতিরা দাবি করেছে, তারা মারিবের কাছে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে এবং লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুতে সৌদি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে হুতিদের পক্ষ থেকে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
এদিকে জার্মানিতে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও কয়েকটি আরব দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের একটি গোপন বৈঠক হয়েছে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে খবর প্রকাশ করেছে অ্যাক্সিওস। বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার আয়োজন করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে ইসরায়েল, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিসরের সামরিক প্রধানরা অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে লোহিত সাগর বন্ধের যেকোনো প্রচেষ্টার নিন্দা জানানো হয়। একই সময়ে বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরানের পরিকল্পনায় চীনের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা হিসেবে এ বৈঠককে দেখা হচ্ছে।
চীন জানিয়েছে, ইয়েমেন ও লোহিত সাগরে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ুক, তারা তা চায় না। একই সঙ্গে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।
এদিকে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের অনেক ওপরে রয়েছে। বোমা হামলার ঘটনার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনও বন্ধ রয়েছে।
/অ