দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি, বেসরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) সমন্বয়ে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও—তিন খাতেই চক্ষুসেবায় উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে। তবে এখনো সমন্বিত জাতীয় তথ্যব্যবস্থা ও অভিন্ন রিপোর্টিং কাঠামো গড়ে ওঠেনি। এ কারণে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, কর্মপরিকল্পনার প্রথম বছরেই জেলা হাসপাতালগুলোর চক্ষুসেবার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেবার মানোন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে উন্নত চক্ষুচিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
ড. মুহিত বলেন, বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের চোখের সমস্যা দ্রুত শনাক্তে সমন্বিত স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালু করা হবে। প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থীদের চশমা সরবরাহের ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি শিল্পকারখানা, অফিস ও অন্যান্য কর্মস্থলে কর্মরতদের চোখের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর কয়েক লাখ সফল ছানি অস্ত্রোপচার নিশ্চিত করা গেলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশকে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত করা সম্ভব হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিসহ বিভিন্ন চক্ষুরোগ শনাক্ত ও চিকিৎসায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর চক্ষুচিকিৎসা দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
চক্ষুচিকিৎসা খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দক্ষ জনবলের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়িয়ে দক্ষ চক্ষু বিশেষজ্ঞ তৈরির সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে।
কর্মশালায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ড. এ.এস.এম.এম. এবং সহযোগী অধ্যাপক (অফথালমোলজি) ড. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির বক্তব্য দেন। এ ছাড়া এআরকে ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে উন্মুক্ত আলোচনায় দেশের জ্যেষ্ঠ চক্ষু বিশেষজ্ঞ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসক এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
এমএম/