দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কমলার রস দেহের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। ফলে রক্তনালীগুলি শিথিল হয়, প্রদাহ কমে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে আসে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষকের গবেষণায় এমন প্রমাণ মিলেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত কমলার রস পান আমাদের রোগপ্রতিরোধী কোষের হাজার হাজার জিনের কাজের ধরণ পরিবর্তন করে। এই জিনগুলোর মধ্যে অনেকই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, প্রদাহ কমানো এবং চিনি বিপাক নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত। এগুলো দীর্ঘমেয়াদি হৃদরোগ স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়েস্টমিনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল প্যাথলজি বিভাগের সিনিয়র লেকচারার ডেভিড সি. গেজ ‘দ্য কনভারসেশন’-এ লিখেছেন, কমলার রস আমাদের দেহে কীভাবে পরিবর্তন আনে, তা বিভিন্ন গবেষণার উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন।
প্রদাহ ও রক্তচাপ সম্পর্কিত জিনের কার্যক্রম কমে: একটি গবেষণায়, প্রাপ্তবয়স্করা দৈনিক ৫০০ মি.লি. বিশুদ্ধ পাস্তুরিত কমলার রস দুই মাস ধরে পান করেছিলেন। ৬০ দিনের শেষে দেখা যায়, NAMPT, IL6, IL1B এবং NLRP3-এর মতো প্রদাহ-সংক্রান্ত জিনগুলো, যা স্ট্রেসের সময় সক্রিয় হয়, কম সক্রিয় হয়ে গেছে।
SGK1 জিন, যা কিডনির সোডিয়াম ধরে রাখার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, তার কার্যক্রমও কমেছে। এই পরিবর্তনগুলো পূর্বের গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যা দেখিয়েছে— নিয়মিত কমলার রস পান তরুণদের রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। গবেষকরা বলছেন, এই ফলাফলগুলো ইঙ্গিত দেয়— কমলার রস দেহের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে, যার ফলে রক্তনালীগুলি শিথিল হয়, প্রদাহ কমে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। কমলার হেসপেরিডিন নামক ফ্লাভোনয়েডের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহ-নিরোধী বৈশিষ্ট্য অনেকদিন ধরেই পরিচিত। নতুন গবেষণা দেখিয়েছে, উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ভারসাম্য এবং চিনি বিপাকের মতো প্রক্রিয়াগুলোও এই প্রাকৃতিক উপাদানের দ্বারা প্রভাবিত হয়। শরীরের ধরনও জিনের প্রতিক্রিয়াকে পরিবর্তন করে।
মোটা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চর্বি বিপাক সম্পর্কিত জিনগুলো বেশি প্রভাবিত হয়, আর পাতলা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রদাহ-সংক্রান্ত জিনগুলোতে পরিবর্তন বেশি লক্ষ্য করা যায়। ইনসুলিন প্রতিরোধ এবং কোলেস্টেরল কমাতেও সাহায্য করে: ১৫টি নিয়ন্ত্রিত গবেষণার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিয়মিত কমলার রস পান ইনসুলিন প্রতিরোধ এবং এলডিএল কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করতে পারে।
ইনসুলিন প্রতিরোধ প্রি-ডায়াবেটিসের একটি মূল সূচক, আর উচ্চ কোলেস্টেরল হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত ওজনযুক্ত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে অন্য একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কয়েক সপ্তাহ দৈনিক কমলার রস পান করলে সিস্টোলিক রক্তচাপ কিছুটা কমে যায় এবং এইচডিএল বা ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
যদিও এই পরিবর্তনগুলো ছোট মনে হতে পারে, তবে বছরের পর বছর ধরে এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। মেটাবোলাইট গবেষণায়, কমলার রস শক্তি ব্যবহার, কোষের মধ্যে যোগাযোগ এবং প্রদাহজনিত পথগুলোকে প্রভাবিত করে। এক মাসের পরে যারা ব্লাড অরেঞ্জ জুস পান করেছেন, তাদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড উৎপাদন করে।
এই পদার্থগুলো স্বাস্থ্যকর রক্তচাপ এবং কম প্রদাহের সাথে সম্পর্কিত। মেটাবলিক সিনড্রোমযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কমলার রস এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন উন্নত করেছে, যা রক্তনালীগুলি শিথিল ও সম্প্রসারণের ক্ষমতাকে নির্দেশ করে। উন্নত এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। যদিও কিছু গবেষণায় এইচডিএল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডে বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি, সামগ্রিকভাবে কমলার রস প্রদাহ কমায়, রক্তপ্রবাহ উন্নত করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকির সূচক উন্নত করে।
ব্রাজিলে এক কমলার রস কারখানায় কর্মীদের উপর গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের apo-B স্তর কম ছিল, যা কোলেস্টেরল বহনকারী কণিকাগুলোর একটি সূচক এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।
এবি/