দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নিজের ১৩ বছর বয়সী ছেলেকে স্মার্টফোন দেবেন কি দেবেন না এ নিয়ে দোটানায় রয়েছেন আমেরিকার নিউ জার্সির ক্র্যানবুরি শহরের বাসিন্দা ও ঘুম–পরামর্শক নিকোল ক্যানন। ছেলে স্মার্টফোন চাইছে ঠিকই, কিন্তু তিনি আশঙ্কা করছেন ডিভাইসটি পেয়ে গেলে সেটি তার ছেলের পুরো মনোযোগ দখল করে নিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে পড়াশোনা, বাইরের খেলাধুলা, এমনকি খাওয়াদাওয়া ও ঘুমের ওপরও।
ক্যাননের ছেলে ইতিমধ্যেই একটি আইপ্যাড ব্যবহার করে, এবং তিনি লক্ষ করেছেন বাইরে খেলতে যাওয়ার চেয়ে ছেলেটি স্ক্রিনে সময় কাটাতেই বেশি আগ্রহী। ঘুম পরামর্শক হিসেবে ক্যাননের আরও উদ্বেগ স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে ডোপামিনের অতিরিক্ত উত্তেজনা ছেলের ঘুমের স্বাভাবিক হরমোনকে ব্যাহত করতে পারে।
অন্যদিকে, স্মার্টফোন দিলে ছেলে বাইরে গেলে তাকে ট্র্যাক করা এবং যোগাযোগ রাখা সহজ হবে এটিই ক্যাননের দ্বিধার আরেক দিক। ছেলের স্মার্টওয়াচ থাকলেও তা সবসময় ঠিকমতো কাজ করে না। কখনো কখনো আমি জানিই না সে কোথায় আছে, বললেন তিনি। আমি চাই ওর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সহজ হোক, কিন্তু একই সঙ্গে চাই না যে সে ফোনে আসক্ত হয়ে যাক।
অভিভাবকদের এই চিন্তা যে অমূলক নয়, তা-ই প্রমাণ করেছে সদ্য প্রকাশিত একটি গবেষণা। পেডিয়াট্রিকস জার্নালে সোমবার প্রকাশিত গবেষণাটিতে দেখা গেছে যেসব কিশোর কম বয়সেই স্মার্টফোন পায়, তাদের মধ্যে স্থুলতা, অবসাদ ও ঘুম–সংকটের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি ১২ বছর বয়সী বাচ্চার ওপর চালানো এই গবেষণা বলছে, কিশোরদের জন্য স্মার্টফোন যত দেরিতে দেওয়া যায়, ততই ভালো।
গবেষণার প্রধান লেখক ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালের কিশোর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. র্যান বারজিলাই বলেন, অনেক বিশেষজ্ঞই শিশুদের স্মার্টফোন দিতে দেরি করার পরামর্শ দেন, কিন্তু এ বিষয়ে বড় আকারের গবেষণা ছিল খুব কম। আমাদের এই গবেষণা সেই শূন্যতা পূরণে সহায়তা করবে। তবে তিনি আরও জানান, গবেষণাটি শিশুদের স্মার্টফোন ব্যবহার–ধরণ বা স্ক্রিন টাইম নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন না দিলেও শিশুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার বিকল্প রয়েছে যেমন ফ্লিপ ফোন, স্মার্টওয়াচ বা এমনকি প্রচলিত ল্যান্ডলাইনও ব্যবহার করা যেতে পারে। আর শিশুরা যাতে স্মার্টফোন পেলেও শারীরিক কার্যকলাপ কমিয়ে না দেয়, সে জন্য তাদের সংগঠিত খেলাধুলা বা বিভিন্ন ব্যায়াম–ক্লাবে যুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন অনেকেই। সংগঠিত খেলাধুলা কেবল শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তোলে না, বরং স্ক্রিনের সামনে সময় কাটানোও স্বাভাবিকভাবেই কমিয়ে দেয়।
দলীয় খেলায় আগ্রহ না থাকলে শিশুদের মার্শাল আর্ট, রানিং ক্লাব বা কমিউনিটি সেন্টারে বিভিন্ন শারীরিক কার্যক্রমে যুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
জে আই