দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আমাদের শরীরের হরমোনের মাত্রায় ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে স্বাভাবিক কার্যাবলী ঠিক থাকেনা। শরীর তার কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারে না। যার প্রভাবে শরীরে ধীরে ধীরে তৈরি হয় নানান জটিলতা। এ জন্য চিকিৎসকরা হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
প্রাকৃতিকভাবে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত জরুরি, যার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম, এবং মানসিক চাপ কমানো। স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা এবং ভিটামিন ডি-এর মতো পুষ্টি উপাদান গ্রহণও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা হরমোনের মাত্রার ভারসাম্য ঠিক রাখতে আমাদের লাইফস্টাইলের ওপর বেশি জোড় দিয়ে থাকেন। শরীরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা দেখা দিলে শরীরে কিছু উপসর্গ স্পষ্ট দেখা যায়। যেমন- ঘুমের সমস্যা, ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস হওয়া, রক্তচাপ এবং হার্ট রেট পরিবর্তন, বিরক্তি, বিষণ্নতা, উদ্বেগ, মুড পরিবর্তন, ক্লান্তি, ক্ষুধা পরিবর্তন, পেশি দুর্বলতা, জয়েন্টে ব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম, চুল ঝরেপড়া বৃদ্ধি, মুখে বা শরীরে লোমের পরিমাণ বৃদ্ধি ইত্যাদি।
কিছু মানুষ হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে নিয়মিত ওষুধ খান। তবে এসব ওষুধে হরমোনের ভারসাম্য সাময়ীকভাবে বজায় থাকলেও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় আরও বড় বিপদ দেখা দিতে পারে।
তাই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি এড়াতে প্রাকৃতিক উপায়েও হরমোনের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
পরামর্শ হিসেবে তারা- মানসিক চাপ তেকে দূরে থাকা, খাবারে নিয়ন্ত্রণ আনায়ন, যোগব্যায়াম করা, আয়ুর্বেদিক খাদ্যাভ্যাস, দারুচিনি এবং মৌরি দিয়ে ভেষজ চা পানের গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারের মাধ্যমেই হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখার কাজটি ভালোভাবে করা যায়। যেমন-
হরমোন উৎপাদনে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: ডায়েটে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত স্বাস্থ্যকর চর্বি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যেমন চিয়া সিড, আখরোট, চর্বিযুক্ত মাছ ইত্যাদি। যা হরমোন উৎপাদন প্রক্রিয়াকে বাড়িয়ে তোলে।
উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণ: ফ্লেক্স সিড, ব্রোকলি, স্প্রাউট, বাঁধাকপি, শস্য, ফল-মূলের মতো উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার খেলে ইস্ট্রোজেন সহজেই বর্জ্য আকারে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। যার ফলে এর মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার: চর্বিহীন মাংস, ডাল, ডিমের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ভারসাম্য বজায় থাকে, যা টেস্টোস্টেরনের মতো হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে।
নির্দিষ্ট কিছু খাবার রয়েছে যা হরমোনের ভারসাম্য বাজায় রাখতে সহায়তা করে। এর মাধ্যে রয়েছে- ১. পুষ্টিতে ভরপুর শণের বীজ ইস্ট্রোজেনের মাত্রা ভারসাম্য রাখে। ২. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে বাদাম। ৩. ফাইটোয়েস্ট্রোজেন ইস্ট্রোজেনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে তিল। ৪. প্রোজেস্টেরন হরমোন উৎপাদনে সহায়তা করে জিঙ্ক সমৃদ্ধ কুমড়ার বীজ। ৫. প্রোজেস্টেরন এবং থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে ভিটামিন এবং সেলেনিয়ামে ভরপুর সূর্যমুখী বীজ।
পর্যাপ্ত ঘুম: আয়ুর্বেদ শরীরের সার্কাডিয়ান ছন্দ অনুসরণ করার উপর জোর দেয়। তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া, সূর্যোদয়ের সাথে ঘুম থেকে ওঠা এবং নিয়মিত খাবারের সময় বজায় রাখা হরমোন নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সামগ্রিক সুস্থতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।
মানসিক চাপ কমানোতে অশ্বগন্ধা: অশ্বগন্ধা এমন একটি ভেষজ যা কর্টিসলের মাত্রা কমাতে ,থাইরয়েড এবং অ্যাড্রিনাল স্বাস্থ্য ভালো রাখতে উপকারী। এসব হরমোন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, সেই সঙ্গে প্রজনন হরমোন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য শতভরী: শতবরী ইস্ট্রোজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং পিরিয়ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। যেসব নারী অনিয়মিত পিরিয়ড , পিএমএস এবং মেনোপেজের লক্ষণে ভূগছেন তারা নিয়মিত শতবরী খেতে পারেন।
যোগব্যায়াম এবং প্রাণায়াম: ভুজঙ্গাসনের মতো যোগব্যায়াম এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
আয়ুর্বেদিক খাদ্যাভ্যাস: শস্যদানা, মৌসুমি শাকসবজি, তাজা ফল, ঘি এবং ভেষজ চা সমৃদ্ধ খাবার শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। প্রক্রিয়াজাত এবং ভাজা খাবার এড়িয়ে চললে হরমোনের ভারসাম্য ঠিক থাকবে।
দারুচিনি এবং মৌরি দিয়ে ভেষজ চা: দারুচিনি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতে সাহায্য করে, অন্যদিকে মৌরি বীজ হজমে সাহায্য করে এবং পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। এসব বীজ হরমোনের ভারসাম্য এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে।
কে