দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে খেজুরের কাঁচা রস খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পাশাপাশি কেউ কাঁচা রস খেতে চাইলে তা বিক্রি না করতে গাছি (খেজুরের রস সংগ্রহকারী) বা বিক্রেতাদের প্রতিও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটির জুনেটিক ডিজিজ কন্ট্রোল প্রোগ্রামের ডেপুটি ম্যানেজার শ ম গোলাম কায়ছার গণমাধ্যমে জরুরি স্বাস্থ্য বার্তা পাঠিয়ে এ সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, সাধারণত শীতকালে নিপাহ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। খেজুরের কাঁচা রস বাদুড়ের বিষ্ঠা বা লালা মিশ্রিত হয় এবং ওই বিষ্ঠা বা লালাতে নিপাহ ভাইরাসের জীবাণু থাকে।
ফলে খেজুরের কাঁচা রস পান করলে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে যে কেউ। তবে খেজুরের রস থেকে তৈরি গুড় খেতে কোনো বাধা নেই বলে জানানো হয়েছে।
সর্তকবার্তায় আরও বলা হয়েছে, নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে খেজুরের কাঁচা রস খাবেন না, আংশিক খাওয়া ফল খাওয়া যাবে না, ফলমূল পানি দিয়ে ধুয়ে খেতে হবে।
কারও এ রোগে লক্ষণ দেখা দিলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান সময়ে বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরেরা নিপাহ ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
তাই খেজুরের কাঁচা রস সংগ্রহ, বিক্রয় ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গাছিকে এবং জনসাধারনগণকে প্রাণিবাহিত সংক্রামক ব্যাধি রোগ নিপাহ ভাইরাস সম্পর্কে অবহিত করা হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ সালে ১৪ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গত সাত বছরের মধ্যে তা সর্বোচ্চ। আর মৃত্যু আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
২০০১ সালে দেশে প্রথম নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের প্রমাণ মেলে। এখন পর্যন্ত মোট ৩৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ২৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের ৩৪টি জেলায় এই ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছে।
ডিপি/