দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

অবসর কাটাতে নেপালে গিয়ে বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে আটকা পড়েছেন সংগীতশিল্পী তাসরিফ খান। মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সঙ্গীদের নিয়ে পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুকে আটকে আছেন তিনি। কবে সেখান থেকে বের হতে পারবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।
গত ২০ আগস্ট নেপালে যান তাসরিফ খান। মঙ্গলবার তিনি সঙ্গীদের নিয়ে ঘান্দ্রুকে পৌঁছান। বুধবার সেখান থেকে ফেরার কথা ছিল তাদের। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও দুর্যোগে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
তাসরিফ খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দুই দিন ধরে নেপালের ঘান্দ্রুক গ্রামে আটকে আছি। সবাই সুস্থ থাকলেও কবে এখান থেকে বের হতে পারব, বুঝতে পারছি না।’
নেপালের গণ্ডকী প্রদেশের কাস্কি জেলার পরিচিত পর্যটন গ্রাম ঘান্দ্রুক অন্নপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় দুই হাজার মিটার। তাসরিফ জানান, তারা যে এলাকায় অবস্থান করছেন, সেখানে বড় ধরনের প্রাণহানি বা ধ্বংসযজ্ঞ দেখেননি। তবে মোদি খোলার বন্যা ও পাহাড়ধসে বিরেঠাঁটি–ঘান্দ্রুক সড়কের একাধিক অংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, কোথাও সেতুও ভেঙেছে। ঝুঁকির কারণে প্রশাসন ওই পথে চলাচল বন্ধ রেখেছে।
বুধবার রাসুয়া–তিব্বত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যে বড় বিপর্যয় ঘটেছে, তার মূল এলাকা থেকে ঘান্দ্রুকের সরলরেখার দূরত্ব প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার। তাসরিফ ও তার সঙ্গীরা ওই এলাকায় নেই। তবে নেপালের বিভিন্ন অঞ্চলের দুর্যোগের খবর এবং ফেরার পথের অবস্থা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, বুধবার বের হতে কিছুটা দেরি হয়েছিল। পরে তাদের গাইড জানায়, ওই দিন আর যাওয়া নিরাপদ নয়। এরপর তারা জানতে পারেন, যে পথ দিয়ে ফেরার কথা ছিল, সেটির বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে। তাসরিফের ভাষ্য, সময়মতো বের হলে তারাও বিপদের মধ্যে পড়তে পারতেন।
এখন বিকল্প পথের খোঁজে এবং প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে তাদের গাইড বাইরে গেছেন। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাসরিফের ধারণা, আরও দুই থেকে তিন দিন সেখানে থাকতে হতে পারে।
দেশে ফেরার অনিশ্চয়তার পাশাপাশি অর্থ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। তার কাছে অল্প কিছু নেপালি রুপি ও প্রায় ১০০ ডলার রয়েছে। কার্ডে টাকা থাকলেও সেখানে কার্ড বা ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেনের সুযোগ সীমিত। এদিকে দেশে ফেরার নতুন টিকিটও পাচ্ছেন না তিনি।
স্বাভাবিক সড়কপথ ব্যবহার করা সম্ভব না হলে নদীর পাশ দিয়ে আট থেকে ১০ ঘণ্টা হাঁটতে হতে পারে। তবে পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে সেই পথও ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন তাসরিফ। পরিস্থিতি নিশ্চিত না হয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না তিনি।
টানা কাজের ব্যস্ততার পর কয়েক দিনের অবসর কাটাতেই নেপাল ভ্রমণে গিয়েছিলেন তাসরিফ। সম্প্রতি তাঁর রোমান্টিক ঘরানার মৌলিক গান ‘বৃষ্টি’ মুক্তি পেয়েছে। দেশে ফিরে রক ঘরানার নতুন গান ‘জীবনের চাকা’র মিউজিক ভিডিও ধারণের পরিকল্পনাও ছিল তার।
তবে এখন সব পরিকল্পনা ছাপিয়ে নিরাপদে দেশে ফেরাটাই তার প্রধান ভাবনা। তাসরিফ বলেন, ‘এখন অন্য কিছু ভাবতে পারছি না। শুধু নিরাপদে দেশে ফিরতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই, আমরা যেন সুস্থভাবে প্রিয়জনদের কাছে ফিরতে পারি।’
/অ