দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরের নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করে অশ্লীল ও অননুমোদিত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া জাহ্নবীর ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে অনৈতিক বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা যাবে না।
তবে শুধু জাহ্নবীর নামে পরিচালিত ফ্যান পেজ বা ফ্যান ক্লাব বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও।
বুধবার (১২ আগস্ট) জাহ্নবীর করা মামলার শুনানি হয় দিল্লি হাইকোর্টে। শুনানিতে আদালত জানান, অভিনেত্রীর অনুমতি ছাড়া তার ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করা যাবে না।
তবে তার নামে থাকা সব ফ্যান পেজ বা ফ্যান ক্লাব বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। কারণ এর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি জড়িত।
জাহ্নবীর অভিযোগ, তার অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব কনটেন্টের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে লাভবানও হচ্ছেন কেউ কেউ।
এমনকি অভিনেত্রীর নামে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
জাহ্নবীর আইনজীবীরা পাঁচ হাজারেরও বেশি ওয়েবপেজ ও পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে তার কিছু ফ্যান পেজের লিংকও ছিল। এসব কনটেন্ট বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তবে আদালত ফ্যান পেজ বন্ধের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেয়।
বিচারপতি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। কোনো তারকা কীভাবে তার নামে থাকা প্রতিটি ফ্যান ক্লাব বা ফ্যান পেজ বন্ধ করে দেওয়ার দাবি করতে পারেন- শুনানিতে এমন প্রশ্নও তোলা হয়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, কোনো ব্যক্তি তারকা হলেই তাকে নিয়ে সাধারণ মানুষের সব বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার অর্জন করেন না। ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষা করতে গিয়ে অন্যের বাকস্বাধীনতা খর্ব করা উচিত নয়।
শুনানিতে কপিরাইটের বিষয়টিও উঠে আসে। আদালত জানায়, কোনো ব্যক্তি যদি জাহ্নবীর ছবি ব্যবহার করে নিজের তৈরি পণ্য বা শিল্পকর্ম বিক্রি করেন, শুধু ছবিতে অভিনেত্রীর উপস্থিতি রয়েছে বলেই সেটিকে তার ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘন বলা যাবে না। কারণ ছবিটি যিনি তুলেছেন বা শিল্পকর্মটি যিনি তৈরি করেছেন, তার নিজস্ব কপিরাইট থাকতে পারে।
অর্থাৎ জাহ্নবীর ছবি রয়েছে- শুধু এই কারণেই কোনো শিল্পকর্ম বা পণ্য বিক্রি করা বেআইনি বলে ধরে নেওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের ধরন, ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং কপিরাইটসহ অন্যান্য আইনি বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে।
তবে জাহ্নবীর অনুমতি ছাড়া তার নাম, ছবি ও পরিচিতি ব্যবহার করে অশ্লীল বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি এবং তা থেকে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের অননুমোদিত ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিনেত্রীর ব্যক্তিত্বের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
এদিকে ডিপফেক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তারকাদের ছবি-ভিডিও বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে বলিউডে উদ্বেগ বাড়ছে। ব্যক্তিগত মর্যাদা, পরিচিতি ও ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় এর আগেও একাধিক তারকা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
জাহ্নবীর মামলাতেও একইভাবে নিজের পরিচিতি ও ছবি ব্যবহারের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা চেয়েছিলেন তিনি। তবে দিল্লি হাইকোর্টের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে একদিকে যেমন অভিনেত্রীর ব্যক্তিত্বের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পেয়েছে।
ফলে অশ্লীল ও অননুমোদিত কনটেন্টের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষার পথ জাহ্নবীর জন্য খোলা থাকলেও, তার নামে থাকা সব ফ্যান পেজ বন্ধ করার সুযোগ থাকছে না। তারকার ব্যক্তিগত অধিকার ও সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার বিষয়টিই এই মামলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
কেএম