দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সকালে আদালতে হাজিরা, এরপর প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় জামিন। সবশেষে আদালত প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা।
২৭ থেকে ২৮ হাজার টাকার একটি শাড়ি নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ওঠাকে ‘দুঃখজনক’ উল্লেখ করে তিশা দাবি করেছেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রচারণার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সেটিও তিনি পালন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে পৌঁছান তানজিন তিশা। কিছু সময় নিজের গাড়িতে অপেক্ষা করার পর তিনি আদালতের এজলাসে ওঠেন। তার আদালতে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রাঙ্গণে বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মীর উপস্থিতি দেখা যায়।
সকাল ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলাটির শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত অভিনেত্রী তানজিন তিশার জামিন মঞ্জুর করেন।
এরপর আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিশা। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেন। সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটের দিকে আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন তিনি।
শুনানি শেষে তানজিন তিশা বলেন, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার বিরুদ্ধে ২৭ হাজার টাকার একটি শাড়ি আত্মসাৎ বা প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় তিনি ব্যথিত।
তিনি দাবি করেন, তার ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ভাষ্য, মামলার বাদীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না। তবে বিলকিস ওয়াজি ঝিনুক নামে একজন আইনজীবী নিজেকে তার ভক্ত হিসেবে পরিচয় দিয়ে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানান তিনি।
তিশার দাবি, সম্মানের খাতিরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই শাড়িটি পরে ছবি দেওয়ার কথা হয়েছিল। তিনি শাড়িটি পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্টোরিও দিয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট পেজকে সেখানে উল্লেখ করেছিলেন। তবে পরবর্তী সময়ে সিনেমার শুটিংয়ের প্রস্তুতি ও অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে শাড়িটি আবার পরে আলাদা প্রচারণা করা সম্ভব হয়নি।
শাড়ির মূল্য পরিশোধের অভিযোগের বিষয়ে তানজিন তিশার অবস্থান আগের মতোই। তিনি দাবি করেন, শাড়িটি তিনি কিনেননি; বরং সংশ্লিষ্ট ফ্যাশন পেজের পক্ষ থেকে তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
তিশার আইনজীবী মো. নিহার হোসেন ফারুক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, শুরুতে তিশা শাড়িটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন এবং দামও জানতে চেয়েছিলেন। পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষই তাকে শাড়িটি উপহার হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
বিনিময়ে অভিনেত্রী হিসেবে শাড়িটি পরে তাদের পেজের প্রচারণা করার অনুরোধ করা হয় বলে দাবি করেন আইনজীবী। তার ভাষ্য, তানজিন তিশা শাড়িটি পরে ছবি ও স্টোরি দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট পেজও উল্লেখ করেছেন।
আইনজীবীর দাবি, প্রচারণার বিষয়ে তিশার পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত ছিল না। সময় ও সুযোগ অনুযায়ী তিনি আরও প্রচারণা করবেন বলে কথা হয়েছিল। কিন্তু এর আগেই মামলা করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

তানজিন তিশার আইনজীবী মো. নিহার হোসেন ফারুক বলেন, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে শাড়ির প্রচারণা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য ও নথি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, তিশার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া স্টোরি এবং সংশ্লিষ্ট পেজকে উল্লেখ করার তথ্য আদালতের সামনে তুলে ধরা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন বলে তার দাবি।
আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক বলেন, তাদের সঙ্গে যতটুকু প্রচারণার কথা হয়েছিল, তানজিন তিশা তা পালন করেছেন। কিন্তু আদালতে ভুল তথ্য উপস্থাপন করে তার মক্কেলের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। সম্মানহানির বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তারা বিবেচনা করছেন। এ বিষয়ে তারা আইনের প্রতি আস্থাশীল এবং প্রয়োজন হলে মামলাও করা হবে।
আদালত প্রাঙ্গণে তানজিন তিশা অভিযোগ করেন, তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আইনি নোটিশ প্রকাশ করা হয়েছিল। এতে তাকে হ্যারাস করা এবং নেতিবাচক প্রচারণার চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মামলাসংশ্লিষ্ট পক্ষের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বাদীপক্ষের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ডিবির তদন্তের বিষয়ে তিশা বলেন, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন এবং নিজেই একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। আদালতের সমন পাওয়ার পরও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তিনি নির্ধারিত দিনে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন সত্য শেষ পর্যন্ত সামনে আসবে এবং আদালতের মাধ্যমে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন।
তবে তানজিন তিশার আইনজীবীর বক্তব্যের সঙ্গে বাদীপক্ষের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সলিমুল্লাহ সরকার বলেন, আসামি নারী হওয়ায় এবং বাদীপক্ষের সঙ্গে আপসের শর্তে পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।
তিনি বলেন, মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম তারা নিয়ম অনুযায়ী অনুসরণ করবেন।
মামলার বাদী আমিনুল ইসলামও বলেন, তারা আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান করেন এবং পরবর্তী আইনি ধাপ অনুসরণ করবেন।
এদিকে জাগো নিউজের এক প্রশ্নে মামলার বাদী আমিনুল ইসলাম বলেন, শাড়ির মূল্য, উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল কি না এবং প্রচারণার প্রতিশ্রুতি কতটুকু পালন করা হয়েছে। এসব প্রশ্নের আইনি নিষ্পত্তি এখন মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়েই হবে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অনলাইন ফ্যাশন পেজ ‘অ্যাপোনিয়া’ থেকে প্রায় ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি সংগ্রহ করেন তানজিন তিশা। শাড়িটির প্রচারণা চালানো এবং মূল্য পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা করা হয়। তবে অভিযোগ ওঠার পর থেকেই তানজিন তিশার দাবি ছিল, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তাই এর মূল্য পরিশোধের প্রশ্নই ওঠে না।
বাদীপক্ষের দাবি, আইনি নোটিশ পাঠানোর পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদালতে মামলা করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তদন্ত শেষে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়ার কথা উল্লেখ থাকায় গত ১২ জুলাই একই আদালত তানজিন তিশার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। বৃহস্পতিবার সমনের নির্দেশ অনুযায়ী আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিনের আবেদন করেন এবং শুনানি শেষে জামিন পান।
শুনানি শেষে আদালত থেকে বেরিয়ে তানজিন তিশা গণমাধ্যমের সামনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। একদিকে তিনি শাড়িটিকে উপহার দাবি করে প্রতারণার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন, অন্যদিকে তার আইনজীবীও আদালতে প্রচারণা সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের কথা বলেছেন।
অন্যদিকে বাদীপক্ষ জানিয়েছে, তারা আদালতের সিদ্ধান্তকে সম্মান করে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
কে