দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট নির্মাতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর এবার চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছেন নীহারিকা এনএম। বলিউডে অভিষেকের পর নিজের ক্যারিয়ারের নানা চড়াই-উতরাই নিয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী। তিনি জানিয়েছেন, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি না হওয়ায় একসময় একটি বড় ছবির সুযোগ হারাতে হয়েছিল তাকে।
গত ৩০ জুলাই মুক্তি পেয়েছে নীহারিকার প্রথম বলিউড সিনেমা ‘ভাই তেরা স্টার হ্যায়’। এতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছেন রাঘব জুয়াল। সিনেমাটি মুক্তির আগে নিউজ১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনয়জীবনের শুরু, প্রত্যাখ্যান এবং ক্যারিয়ারে নেওয়া কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন নীহারিকা।
অভিনয়ে আসার আগেই চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্য ছিল নীহারিকার। কয়েক বছর আগে মুম্বাইয়ে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অধীনে প্রায় তিন বছর প্রশিক্ষণ নেওয়ার পাশাপাশি ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা ও থিয়েটারে কাজ করেন।
তবে বলিউডে কাজের শুরুটা সহজ ছিল না বলে জানান নীহারিকা। তার ভাষ্য, হিন্দি চলচ্চিত্রে নারীদের সৌন্দর্য নিয়ে তৈরি করা প্রচলিত মানদণ্ড তাকে হতাশ করেছিল।
নীহারিকা বলেন, প্রথম দিকে বলিউডেই কাজের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু নারীদের চেহারা, গায়ের রং ও সৌন্দর্য নিয়ে যে ধরনের প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছে, তা তার পছন্দ হয়নি। পাশাপাশি বলিউডের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও তাকে ভাবিয়ে তুলেছিল।
পরে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে মনোযোগ দেন নীহারিকা। একপর্যায়ে নির্মাতা কার্তিক সুব্বারাজের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান স্টোন বেঞ্চ ফিল্মসের সঙ্গে তিন ছবির চুক্তি করেন তিনি।
তবে ওই চুক্তির কারণেই দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি সফল ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ হাতছাড়া হয় বলে জানান নীহারিকা।
তিনি বলেন, চুক্তির মাঝামাঝি সময়ে বেশ কয়েকটি ভালো ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন। কিন্তু চুক্তির কারণে সেসব ছবিতে কাজ করতে পারেননি। পরে ছবিগুলো বক্স অফিসে সফল হওয়ায় বিষয়টি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় আক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ পান নীহারিকা। বর্তমানে ক্যারিয়ারের নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের আরেকটি অভিজ্ঞতার কথাও জানান এই অভিনেত্রী। এক খ্যাতিমান পরিচালকের ছবিতে অভিনয়ের জন্য অডিশন ও লুক টেস্ট সম্পন্ন করার পর চুক্তিতেও সই করেছিলেন তিনি। পরে চুক্তিতে থাকা অন্তরঙ্গ দৃশ্যসংক্রান্ত একটি শর্ত নিয়ে আপত্তি জানান।
নীহারিকা বলেন, পর্দায় অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করতে তিনি স্বচ্ছন্দ নন বিষয়টি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন। তার আপত্তির পর বডি ডাবল ব্যবহার করে দৃশ্য ধারণের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটিও সম্ভব হয়নি। নীহারিকার দাবি, তার সহশিল্পী বডি ডাবলের সঙ্গে ওই দৃশ্যে অভিনয় করতে রাজি হননি। এরপর তাকে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়—দৃশ্যটি করতে হবে, নাকি সিনেমা থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্তেই সিনেমাটি ছেড়ে দেন নীহারিকা। তবে ওই ছবির পরিচালক বা সহশিল্পীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি।
নীহারিকার ভাষ্য, অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার জন্য নিজের ব্যক্তিগত সীমারেখা ও স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গার সঙ্গে আপস করতে চান না তিনি।
যে আই